শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

জুমাতুল বিদায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪
জুমাতুল বিদায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি সারা মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। আরবিতে ‘বিদা’ শব্দের অর্থ শেষ। জুমাতুল বিদা মানে হচ্ছে শেষ শুক্রবার বা শেষ জুমা। জুমাতুম বিদায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে ঢল নেমেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। নির্ধারিত সময়ের আগেই মসজিদের প্রতিটি কোণ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে মুসল্লিদের উপস্থিতি।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) জুমাতুল বিদার পর দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনায় দোয়াও করেন মুসল্লিরা।

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আখিরাতে মুক্তির পাশাপাশি দেশ ও মুসলিম জাতির শান্তি কামনা, আল আকসা মসজিদ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা চেয়ে দোয়া করা হয় মহান আল্লাহর কাছে।

নামাজ পূর্ব বয়ানে খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন পবিত্র মাহে রমজান, শবে কদর, জুমাতুল বিদার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। যাকাত ও ফিতরা আদায়ের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে উপস্থিত মুসল্লিদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। নামাজ শেষে খতিব দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। এসময় মুসল্লিদের আমিন-আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে যায় পুরো মসজিদ। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক মুসল্লি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দুপুরে জুমার নামাজের আগেই বায়তুল মোকাররমে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। আর আজানের সময়ই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মসজিদের ভেতরের এরিয়া। পরে বারান্দা এবং খোলা অংশ ছাড়িয়ে মার্কেটের ভেতরে পর্যন্ত কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান অনেকে। অন্যরকম উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে জুমা পড়তে আসেন শিশু-কিশোররাও।

মসজিদে আসা মুসল্লিরা বলছেন, রহমত, বরকত এবং মাগফেরাতের মাস রমজান শেষ সময়ে উপনীত হয়েছে। তাই মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে শেষ জুমার দিন মসজিদে আগেভাগেই এসেছেন তারা।
শরিফুল ইসলাম নামের এক মুসল্লি বলেন, মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি একটি পবিত্র দিন। জুমাতুল বিদা রোজাদারকে স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানের শেষলগ্নে এর চেয়ে ভালো কোনো দিন আর পাওয়া যাবে না।
সারা বিশ্বেই পবিত্র মাহে রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা হিসেবে পালন করেন মুসলিমরা। তাই একটু আগেভাগেই মসজিদে এসেছি। সাথে ছেলেকেও নিয়ে এসেছি।

আব্দুর রহমান নামের আরেক মুসুল্লি বলেন, রমজান মাস এমনিতেই ফজিলতপূর্ণ মাস। অন্যান্য সকল মাসের চেয়ে উত্তম। আর শুক্রবার দিনও সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট-বড় সবাই উৎসবের আমেজ নিয়ে নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদে নামাজ পড়ার পর আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত, ও বরকতের জন্য দুআ করে। তাছাড়া এটি একটি বড় ধরনের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার এবং মুসলিম সমাজের ঐক্যের প্রতীক হিসাবেও বিবেচনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, রমজান মাসের শেষ জুমার দিন মুসলিম বিশ্বে ‘জুমাতুল বিদা’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারো বাংলাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ দিন পালিত হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া