বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

জামায়াত রাজনীতি করবে এটাই স্বাভাবিক : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩
জামায়াত রাজনীতি করবে এটাই স্বাভাবিক : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামায়াত রাজনীতি করবে— এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু এতদিন জামায়াত কেন রাজনীতি করতে পারেনি, সেটাই তো প্রশ্ন হওয়া উচিত। এখন কেন সরকার অনুমতি দিল। এখন অনুমতি দিয়ে সরকার বোঝাতে চাইলো— সরকারের সঙ্গে তাদের আঁতাত হয়েছে, কেউ কেউ এ কথা বলছেনও। আসলে সরকার জামায়াতকে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এক ভিসানীতির কারণে সরকারের সবাই প্রেসার মাপছে, সুগার পরীক্ষা করছে। সবকিছুর তো শেষ আছে।

সোমবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বাধীনতা ঐক্য পরিষদ আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এরপর ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নানা বক্তব্য গণমাধ্যমে আসছে। গত ১০ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জামায়াতের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়েও নানা কথা-বার্তা আলোচনা হচ্ছে। আসলে ভিসানীতির কারণে সরকার জামায়াতকে সমাবেশ করার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমরা যে কথা বলতেছি তা কি আপনারা শুনছেন না। এই সংলাপ তো প্রতিদিনই হচ্ছে। আমি বলব শেখ হাসিনা যদি বুদ্ধিমতী হন তাহলে আপনি দশ দফা মেনে নেবেন। আগামীতে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কালীন সরকারের ব্যবস্থা করবেন। এর মাধ্যমেই আপনারা অন্তত একটু হলেও বাংলাদেশে চলাচল করতে পারবেন। এর বাইরে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী তো যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া, না যাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন। আবার শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাকি সেখানে একাধিক বাড়ি আছে, আমেরিকা না গেলে ওই বাড়ি কে দেখাশোনা কে করবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার এখন আমেরিকার ভিসা নীতির আতঙ্কে আছে। আর সরকারের নিরাপদে প্রস্থানের একটা মাত্র পথ খোলা আছে। আর সেটা হচ্ছে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। সরকার যদি এসবের সঙ্গে দশ দফা দাবি মেনে নেয় তাহলেই নিরাপদে প্রস্থান করতে পারবে।

তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলার জন্য যারা গুম হয়েছেন এবং আইনের শাসন ফিরে পাওয়ার জন্য যারা গুম হয়েছেন তাদের বিচার এ দেশে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সরকারকে যেতে হবে। নিরাপদ প্রস্থান? এই সরকারের নিরাপদে প্রস্থান করতে চাইলে একটি মাত্র পথ খোলা আছে। তা হচ্ছে জনগণের মালিকানা জনগণের হাতে ফেরত দিতে হবে, তাদের ভোটাধিকার তাদের কাছে ফেরত দিতে হবে। জনগণের ১০ দফা মেনে নিতে হবে।

সংলাপ প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপি এবং তাদের নেতারা সংলাপ সংলাপ করছে। সংলাপ হতে পারে। কিন্তু তার আগে ১০ দফা মেনে নিতে হবে। এরপর নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপ হতে পারে।

গয়েশ্বর বলেন, গুম, খুন, হামলা, মামলা এবং দুর্নীতির সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়তো ২-৩ শতাংশ সদস্য জড়িত থাকতে পারে। দুর্নীতি অপকর্মের সঙ্গে সচিবালয়ের হয়তো একই অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আমলাদের বেশিরভাগই ভালো; তারা তো সরকারের কোনো অপকর্মের দায়ভার নেবে না।

চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা শুধু অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছি না। এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা কোনোদিন আপোস করব না এই সরকারের সাথে। এই অস্তিত্বের লড়াই করতে যেখানেই আছেন বা যেই পরিচয়েই আছেন তারা আমাদের বন্ধু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডাকাতের খপ্পরে পড়েছে। এই ডাকাতের খপ্পর থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু জামায়াত ইসলাম কেন রাজপথে যারাই থাকাবে আমরা মনে করব তারা ন্যায়ের পথে এবং সংগ্রামের পথে আছে।

স্বাধীনতা ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া