শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

জনগণ চাইলে ক্ষমতায় থাকব, নইলে থাকব না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩
জনগণ চাইলে ক্ষমতায় থাকব, নইলে থাকব না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যতদিন চাইবে ততদিনই ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ; জনগণ না চাইলে থাকবে না।

বুধবার (২৪ মে) সকালে কাতার ইকোনমিক ফোরামের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনগণের জন্য দিনে এক বেলা খাবার খাওয়াও বেশ কঠিন ছিল। এটা ছিল তাদের আমলের পরিস্থিতি। আমার দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমাদের জনগণের জন্য সবকিছু নিশ্চিত করেছি। এ কারণে এখন নির্বাচনের বিষয়টা জনগণের অধিকার। আমরা কী করেছি, তা জনগণ বোঝে। তারা ভোট দিলে আছি, না দিলে ঠিক আছে।

কতদিন ক্ষমতায় থাকতে চান এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যতদিন আমার দেশের জনগণ চাইবে। কারণ আমি দেশের মানুষের জন্যই কাজ করছি। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল, এ দেশের মানুষকে একটি উন্নত জীবন দেয়া। এটি আমারও লক্ষ্য। আমার দেশের জনগণ ক্ষুধায় কষ্ট পাবে না, অপুষ্টিতে ভুগবে না, শিক্ষা, বাসস্থান কিংবা চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদার অভাবে ভুগবে না। এ বিষয়গুলোই আমি নিশ্চিত করতে চাই। আমরা বিগত সাড়ে ১৪ বছরে এরই মধ্যে এর অনেকটাই করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হলো জনগণের অধিকার। আমরা কী (উন্নয়ন) করেছি, তারা তা দেখেছে। তারা যদি আমাকে ভোট দেয়, তাহলে আমি আছি; আর যদি না দেয়, তবে ঠিক আছে, আমি থাকব না। আমাদের সময় অনেক উপ-নির্বাচন, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কে সেখানে সমস্যা তৈরি করেছে? আমরা তো করিনি। কিন্তু সব নির্বাচনেই তো কিছু ঘটনা ঘটে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ২০০৬ সালে আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১.৬ শতাংশ, ২০২২ সালে সেটিকে আমরা ১৮.৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। আশা করি, আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে কোনো চরম দারিদ্র্য থাকবে না।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষই ঠিক করবে কারা দেশ পরিচালনা করবে। আমি এই অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এটি জনগণেরই ক্ষমতা, আমি তাদের ক্ষমতা তাদের কাছেই রাখতে চাই। আমি ক্ষমতা দখল করে রাখতে চাই না; বরং আমি দেশের জনগণকেই ক্ষমতায়িত করতে চাই, যাতে তারা তাদের অধিকার চর্চা করতে পারে। সুতরাং আমাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন অবশ্যই মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার বাবাকে হত্যার পর সামরিক বাহিনী দেশের ক্ষমতা দখল করে এবং সে সময় সব নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সংকটাপন্ন করে তোলা হয়েছিল। সে সময় নির্বাচন ছিল স্রেফ তামাশা। এরপর যখন আমি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচন করে, সেই তখন থেকে আজও আমি গণতন্ত্র, জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করাই আমাদের সংগ্রাম। আমরা ক্ষমতায় থাকাকালে এটি করে দেখিয়েছি। হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু বিরোধীদের যে অবস্থান, বিশেষ করে প্রধান যে বিরোধীদল তা তো একজন স্বৈরশাসকের হাতে গড়া। প্রথমে তারা ক্ষমতা দখল করেছে, তারপর দল গঠন করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউই কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু সেই নির্বাচনের ফলাফল কী ছিল? সেই দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, কিছু দল বলছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। কীভাবে অংশ নেবে? তাদের সময়ে তো দেশের মানুষের প্রচুর ভোগান্তি হয়েছে। সে সময় সন্ত্রাসবাদ এবং দুর্নীতি ছিল সর্বগ্রাসী। জনগণের ব্যাপারে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। সে সময় দেশের মানুষ এক বেলা পেট-পুরে খেতে পারত না। এই ছিল তাদের অবস্থা।

নির্বাচনকে জনগণের অধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কী (উন্নয়ন কর্মকাণ্ড) করেছি তারা তা দেখেছে। তারা যদি আমাকে ভোট দেয় তাহলে আমি আছি, আর যদি না দেয়, তবে ঠিক আছে, আমি থাকব না। আমাদের সময় অনেক উপ-নির্বাচন, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কে সেখানে সমস্যা তৈরি করেছে। আমরা তো করিনি। কিন্তু সব নির্বাচনেই তো কিছু ঘটনা ঘটে।

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের বিষয়ে বিদেশিদের আশ্বস্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবাইকে বলেছি, যে আপনারা যদি চান তাহলে পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারেন। আমি এখানে এসেছি, আমাদের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং এটিই আমাদের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম করতে গিয়ে বহুবার আমাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তারপরও আমি বেঁচে আছি। হয়তো আল্লাহ আমাকে দিয়ে কিছু কাজ করিয়ে নিতে চেয়েছেন। তাই হয়তো আমি এখানে।

সরকার দেশের জনগণের অধিকারকে বিপন্ন করবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন আমি দেশের মানুষের সেই অধিকারকে বিপন্ন করব, যা আমরাই প্রতিষ্ঠা করেছি? তাদের (বিদেশিদের) এটা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। অবশ্যই দেশে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তবে সেনা শাসকরা যেসব দল তৈরি করেছে, যেসব দল যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে গঠিত, তারা হয়তো এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না-ও করতে পারে। কিন্তু সেই দলগুলো ছাড়াও তো আরও দল রয়েছে। সেসব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে

সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ, কারও সাথে বৈরিতা নয়- এটা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাওয়া গেলে সেটা বাংলাদেশের কিনতে কোনো আপত্তি নেই।

সম্প্রতি আইএমএফের কাছ থেকে মোটা অংকের ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে বলেই তারা আমাদেরকে ঋণ দিয়েছে।

ইকোনমিক ফোরামের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি চলছে। জিডিপি লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইএমএফ’র ঋণ নিচ্ছি আমরা। একটা কথা হচ্ছে, আইএমএফ তাদেরকেই লোন দেয় যারা পরিশোধ করতে পারবে। বাংলাদেশ এই ঋণ কাজে লাগাতে পারবে। পরিশোধও করতে পারবে।

ব্লুমবার্গ আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অগ্রগতির জন্য ঋণ নিতেও সক্ষম পাশাপাশি আমরা তা ফেরত দিতেও সক্ষম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া