মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

চার মাসে ৩ হাজার ৭২২ মামলা সড়ক আইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০
চার মাসে ৩ হাজার ৭২২ মামলা সড়ক আইনে
সংগৃহিত ছবি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও গত চার মাসে ৩ হাজার ৭২২টি মামলা করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও অন্যান্য আইনে এসব মামলায় জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা। এ সময়ে মোট ৬১৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে।

বিআরটিএর এনফোর্সমেন্ট শাখার তথ্য বলছে, মামলাগুলো হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও জুনে। এপ্রিল ও মে মাস নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশে সাধারণ ছুটি থাকায় ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সক্রিয় ছিলেন বিআরটিএর আট ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই মাসে মোট ১৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে সড়ক আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন অপরাধে ৮৬৪টি মামলা করা হয়। জরিমানা আদায় করা হয় ১৯ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা। এর বাইরে ১১ জনকে কারাদণ্ডও দেয়া হয়।

ফেব্রুয়ারিতে আইন প্রয়োগে আরো কঠোর অবস্থান নেয় বিআরটিএ। ওই মাসেও সক্রিয় ছিলেন সংস্থাটির আটজন ম্যাজিস্ট্রেট। তারা সব মিলিয়ে ১৪৭টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এতে ১ হাজার ২১১টি মামলা করা হয়। জরিমানা আদায় করা হয় ২৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর বাইরে তিনজনকে জরিমানা ও ১৮টি যানবাহন ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন : সড়ক দুর্ঘটনার মর্মানিক দৃশ্য: কার বুকে শিশু বুলবুলি?

মার্চে সক্রিয় ছিলেন নয়জন ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামে মাসজুড়ে ১৩৮টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। মামলা করা হয় ৯৪৭টি। জরিমানা আদায় করা হয় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ৩০০। কাউকে কারাদণ্ড না দেয়া হলেও তিনটি যানবাহন পাঠানো হয় ডাম্পিংকে।

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাস ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর জুনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিআরটিএর ১১টি আদালত সক্রিয় ছিলেন। জুনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয় ২০১টি। ৭০০ মামলা করে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে কাউকে কারাদণ্ড দেয়া হয়নি এ সময়। পাঁচটি যানবাহনকে পাঠানো হয় ডাম্পিংয়ে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেল লাইসেন্স না থাকা, চালকের লাইসেন্স না থাকা, হেলমেট না পরা, এক মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি ভ্রমণ, ট্রাফিক আইন ভঙ্গসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলাগুলো হয়েছে।

তবে এ সময়ে ঠিক কতগুলো মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি বিআরটিএর কর্মকর্তারা।

মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে মামলা হয়েছে, সেগুলোর সিংহভাগ ইস্যুই ছিল ফিটনেস সম্পর্কিত। পরে করোনাভাইরাসের কারণে ফিটনেস সদন গ্রহণের মেয়াদ বাড়ানো হলে জুনে এ ইস্যুতে মামলার সংখ্যা কমে আসে। হালকা, মাঝারি ও ভারী যানবাহনের বিরুদ্ধে গত মাসে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক আইন অমান্যের অপরাধে।

তবে বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির মতো বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করছে সংস্থাটি। বাসের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা, যাত্রী ও চালকদের মাস্ক না পরাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইস্যুগুলোও দেখছেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ এখনো নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। এমন পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা রয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলবে গণপরিবহন। অভিযোগ আসছে, অনেক গণপরিবহনই সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধিগুলো উপেক্ষা করছে।

এখন থেকে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো এসব বিষয়ও দেখবেন। প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থাও নেয়ার কথা জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: