শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
গাজীপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গাজীপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেছেন, আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে বিএনপি কোন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়?

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, গাজীপুরে ট্রেনে নাশকতা। এটা নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র। রেলের নাশকতা ও আগুন সন্ত্রাস করে তারা দেশে কোন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়? এটাই প্রশ্ন। বিএনপি ও তাদের দোসররা এসব অপকর্ম করছে। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ সতর্ক পাহারা আরও জোরদার করছে। বিএনপি নাশকতা করে যে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে সেই ভয় কাটিয়ে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সফল, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। ব্যাপক ভোটার উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার। সমমনাদের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি গুপ্ত হামলা ও গুপ্তহত্যা করছে। বিএনপি ও তাদের দোসররা বাসে-ট্রেনে আগুন দেয়। তারা ৭ জানুয়ারি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির গুপ্ত মিছিলের কোনো মূল্য নাই। এগুলো আমরা দেখেও না দেখার ভান করছি। রাজনীতির মাঠে ফখরুল থাকলে ভালো লাগতো। রাজনীতির মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ফখরুলের জবাব-পাল্টা জবাব দিতে ভালো লাগে। এখন সেটা অনুপস্থিত। থাকলে ভালো লাগতো। মিস করছি এটা বলতে চাই না।

এই নির্বাচন সফল, শান্তিপূর্ণ ও ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ জোর দিচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, তারা যতই নাশকতা করুক, মানুষ নির্বাচনমুখী। ভোট দিতে মানুষ উন্মুখ। গ্রামেগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচনবিরোধী জবাব দেয়া হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ আমরা রাখি নাই। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আছে। অন্যান্য দলও আছে। এবারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার এলাকায় চারজন, আমার এলাকায় চারজন। আমি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি, আমার এলাকাতেও চারজন রয়েছেন। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। সব এলাকাতেই প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। এ নিয় আমরা দুশ্চিন্তা করছি না।

তিনি বলেন, তাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে উঠানোর ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই, তারা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির সাথে আপস করারও সুযোগ নেই।

জাতীয় পার্টির নির্বাচনে আসা নিয়ে শঙ্কা থাকতে পারে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় পার্টি জোটে ও নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। গতকাল জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্তের জন্য ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেদিন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি জোটে থাকতে চায়, নির্বাচন করতে চায়। তারা বলেনি সরে যাবে। শঙ্কা, আশঙ্কা থাকতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাই। ১৭ তারিখ সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সে পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি।

‘এখানে নতুন অভিজ্ঞতা এসেছে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার। গণতন্ত্রে এটা আরেকটা নতুন অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ নিয়ে অস্থিরতার কোনো কারণ নেই।’-বলেন সেতুমন্ত্রী।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া