মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

গাজীপুরের নগরমাতা জায়েদা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩
গাজীপুরের নগরমাতা জায়েদা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিজয়ের হাসি হাসলেন জায়েদা খাতুন। নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোটে পরাজিত করে গাজীপুরের প্রথম নারী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ ভোট। ফলে নানা নাটকীয়তার পর শেষ হাসি এখন জাহাঙ্গীর ও তার মায়ের মুখে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) রাত ১টা ৩২ মিনিটের দিকে গাজীপুর জেলা পরিষদ ভবনের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে নির্বাচনের ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে এই ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।

মেয়র নির্বাচনে মাছ প্রতীকের আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৭৪ ভোট, লাঙ্গল মার্কার এম এম নিয়াজ উদ্দিন ১৬ হাজার ৩৬২ ভোট, হাতপাখার গাজী আতাউর রহমান ৪৫ হাজার ৩৫২, গোলাপ ফুল প্রতীকের মো. রাজু আহমেদ পেয়েছেন ৭ হাজার ২০৬ ভোট, ঘোড়া প্রতীকের মো. হারুন-অর-রশিদ ২ হাজার ৪২৬ ও হাতি প্রতীক নিয়ে সরকার শাহনূর ইসলাম পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৬৫ ভোট।

আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গাজীপুর সিটির ৪৮০টি কেন্দ্রে একযোগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দেশের বৃহত্তম এই সিটিতে এবারই প্রথম ইভিএমে হওয়া এই ভোটগ্রহণ একটানা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সবমিলিয়ে কোনোপ্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় ভোট গণনা।

সহিংসতার খবর না পাওয়া গেলেও কিছু কিছু জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলা, এক বুথের ভোটাররা অন্য বুথে যাওয়া নিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ শোনা যায়। প্রায় বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ইভিএম ধীরগতিতে কাজ করেছে।

এদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে সিইসিসহ কমিশনের সদস্যরা সকাল থেকেই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রতিক্রিয়া জানাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চার নির্বাচন কমিশনার।

গাজীপুরের এ নির্বাচনে ৩৩৩ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশ নেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৭৯ জন প্রার্থী আছেন। এছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন সিটির প্রথম মেয়র হন এম. এ. মান্নান। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হন জাহাঙ্গীর আলম। মেয়াদ শেষের আগেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ পুরুষ, ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ নারী ও ১৮ জন হিজড়া। এই সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড আছে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি, মোট ভোটকক্ষ ৩ হাজার ৪৯৭টি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া