বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩১ অপরাহ্ন

গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪
গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে গাজা উপত্যকায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। সোমবার পাস হওয়া এই প্রস্তাবটিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মিদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির ব্যাপারটিরও উল্লেখ রয়েছে।

সোমবার (২৫ মার্চ) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থার বৈঠকে প্রস্তাবটি ভোটের জন্য তোলার পর পরিষদের সব সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল। তবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন বা ভেটো প্রদান করেনি দেশটি।

ভোটের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাসে বিলম্ব হওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে দায়ী করেন। ভোটে বিরত থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাবের সবকিছুর সঙ্গে একমত ছিলাম না।

তিনি বলেন, হামাসের ওপর নিন্দা জানানোর প্রস্তাবসহ সুনির্দিষ্ট কিছু প্রধান সম্পাদনা উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ায় অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা বাড়বে।

ভোটের পর এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, চূড়ান্ত প্রস্তাবে সেই ভাষ্য ছিল না, যা যুক্তরাষ্ট্র অপরিহার্য বলে মনে করে। এই ভোট নীতির পরিবর্তন বোঝায় না।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস বলেছে, প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার যে ব্যর্থতা, তা আগের অবস্থান থেকে স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ। এটি হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রচেষ্টার পাশাপাশি ১৩০ জনেরও বেশি জিম্মি মুক্তির প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের আলোকে ওয়াশিংটনে উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবেন না নেতানিয়াহু।

আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেস বলেন, এটি খুব, খুব তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। প্রায় ছয় মাস পর … ভোট, প্রায় সর্বসম্মতভাবে গাজায় অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি উঠেছে।

বেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তিনবার ভেটো দিয়েছে। এবার তারা (প্রস্তাবটি) পাস হতে দিয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন বা প্রস্তাব হলো আন্তর্জাতিক আইন। এসব আইন জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে দেখা হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েই যাচ্ছে। সেখানকার মানবিক সংকট তীব্র। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক আহ্বানের মধ্যে এ ভোট অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে, হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মুক্তির সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের করা এই খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১১টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়। স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এবং রোটেটিং সদস্য আলজেরিয়া এতে বিরোধিতা করে। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে গায়ানা।

নিরাপত্তা পরিষদের নীতি অনুযায়ী, একজন স্থায়ী সদস্য ভেটো দিলেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়ার ভেটো দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া এ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

ভেটো দেওয়ার পর এ নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবাঞ্জা। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভণ্ডামি। যেখানে গাজায় প্রথমদিকে ইসরায়েলকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু করেনি। সেখানে তারা এমন সময় যুদ্ধবিরতির কথা বলছে যখন “গাজা কার্যত পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আমরা আমরা এখানে একটি পুরোনো ভণ্ডামির প্রদর্শনী দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, খসড়াটিতে অত্যধিক রাজনীতিকরণ করা হয়েছে এবং গাজার রাফা শহরে সামরিক অভিযান চালাতে ইসরায়েলের জন্য একটি সবুজ সংকেত রয়েছে।

দূত ভাসিলি নেবাঞ্জা বলেন, প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির কোনো আহ্বান নেই। মার্কিন নেতৃত্ব ইচ্ছেকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছে।

চীনের দূত ঝাং জুন বলেন, মার্কিন খসড়ায় যুদ্ধবিরতির বিষয়টি কৌশলে পরিহার করা হয়েছে, পাশাপাশি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া