বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিতে হবে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৩
খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিতে হবে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচির পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু এ উপমহাদেশের নয়, এশিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন নেত্রী। খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়েছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে। এখনো তিনি বন্দি অবস্থায় আছেন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তার কিছু হলে সরকারকে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। তার আমলে মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয়। এভাবে তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তার জীবনে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় শেখ হাসিনার সরকারকে নিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চলছেন। প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা তিনি। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে তিনি দেশের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৫ বছর তিনি কারাবন্দি। যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। একই ধরনের মামলায় আওয়ামী লীগের যারা আটক ছিলেন তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ তাকে আটক রেখে দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তাই আমাদের লক্ষ্য একটাই- এই সরকারের পতন, এর মাধ্যমেই দেশে নতুন সূর্য উদয় হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন। তিনি সারাদেশে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা তথা চারণ কবির মতো দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের পক্ষে জাগ্রত করে চলছেন। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। যেই দুই কোটি টাকার অভিযোগে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে সেটা এখন ৮ কোটি টাকা হয়েছে। একই ধরনের মামলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে হয়েছিল। কিন্তু তাদের শুধু মুক্তি দেওয়া হয়নি, মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এরা অসাংবিধানিক ও অবৈধ সরকার। তারা ১৫ বছর ধরে জনগণের কাঁধে চেপে বসেছে। এরা এখন গণতন্ত্রের জন্য নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। দেখেন, আমাদের ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক জিসানসহ ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামী ৬ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের যাদের তুলে নেওয়া হয়েছে তাদের জনসম্মুখে হাজির করতে হবে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বিঘ্নিত করলে কারও শেষ রক্ষা হবে না।

তিনি আরো বলেন, আবারও মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলায় সাজা দেওয়া শুরু হয়েছে। সরকার দেশের মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে সরকারকে সাবধান করে বলে চাই, এখনও সময় আছে নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে, বাড়িতে বাড়িতে হানা বন্ধ করতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ইস্পাত কঠিন মনোবল ধরে রেখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আমরা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি। তাকে অবিলম্বে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। নেতাকর্মীরা বাসায় থাকতে পারেন না। এই অনাচার দুরাচার থেকে মুক্ত হতে হলে শেখ হাসিনার সরকারকে বিদায় ছাড়া উপায় নেই। বিদেশী প্রভুদের দয়ায় কোনো কাজ হবে। দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছে। তারা হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ঘরে ফিরবে।

এদিকে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা মামলা হামলাবাজ সরকারের বিদায়ের লক্ষ্যে এখানে পদযাত্রা করছি। এদের বিদায় নিতে হবে। তারা আমাদের হামলা মামলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায়। এভাবে কিছুদিন হয়ত টিকে থাকা যায়, তবে চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আজ হোক কাল হোক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করবো।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। আমরা এখনো আপোসহীন আন্দোলন করছি। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কোনো আপোস নাই। তাকে সুচিকিৎসা না দিয়ে আরো ব্যাধিগ্রস্ত করা হয়েছে। বাইরে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না। আমরা তার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি করছি। বাংলাদেশে অন্যায় অবিচার বন্ধ করতে হবে। এটা চিরদিন চলতে পারে না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বিচারিক আইন উপেক্ষা করে সাংবিধানিক আইন উপেক্ষা করে জেলে পাঠানো হয়েছে। শুধু মানুষের ভোটাধিকার লুটে নিয়ে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এটা করা হয়েছে। আজকে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তাদের বিচার হবে। দেশে এখন আওয়ামী বিচার লীগ নামে একটি সংগঠন হয়েছে। এটা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও জনগণ কিন্তু বুঝে গেছে। এরা কিভাবে ন্যায় বিচার করবে! এরা তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির আওতায় চলে আসবে। কেউ রেহাই পাবেন না। ইনশা আল্লাহ দেশে শুভদিন আসছে।

বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এ পদযাত্রা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, মালিবাগ ও মগবাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আযম খান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মীর সরফত আলী সপু, নাসির উদ্দিন অসীম, রকিবুল ইসলাম বকুল, ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পদযাত্রা কর্মসূচি উপলক্ষ্যে বেলা ১২টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল স্লোগান নিয়ে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশকে সতর্ক অবস্থান করতে দেখা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া