বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

খাগড়াছড়িতে সড়ক সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
খাগড়াছড়িতে সড়ক সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দু’পাশে সবুজে ভরা ধান ক্ষেত। ক্ষেতের মাঝখানে বয়ে গেছে খাগড়াছড়ি সদরের দক্ষিণ গোলাবাড়ি পাড়ার রান্তা। রাস্তাটি গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। কাদাভরা রাস্তা দিয়ে ১২ বছর পার করেছে গ্রামবাসীরা। এটি যে ইটের রাস্তা তার কোনো চিহ্ন পর্যন্ত চোখে পড়ে না। সদরের ঠাকুরছড়া-দক্ষিণগোলাবাড়ি যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। দুর্ভোগে পড়ছে খাগড়াছড়ি সদরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর গোলাবাড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি মারমা জনগোষ্ঠির মানুষরা।

দক্ষিণ গোলাবাড়ি এলাকা গিয়ে দেখা যায়, বর্ষায় বড় বড় গর্তে পানি জমে রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক সবজি নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় দোলনার দোলে দোলে। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে মাঝে মধ্যে ইজিবাইক উল্টে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা নেমে ইজিবাইক ধরে পার করতে হয়। দুর্ভোগে পড়ছে যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে গ্রামে গাড়ি ঢোকা দুরের কথা পায়ে হেঁটে প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হয়। জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়। মানুষ হাঁটার পরিবেশ নেই। পাড়ার অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পাড়ায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গ্রামে আসতে পারে না। এই রাস্তা নিয়ে বার বছরের বেশিষ সময় ধরে পাড়ার মানুষরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

ইজিবাইক চালক ক্যচিং মর্গ বলেন, গত সপ্তাহে যাত্রীসহ গাড়ি ধান খেতে উল্টে পড়ে যায়। আমার হাত-পা কেটে গেছে। জাতীয় নির্বাচন আসলে ভোট চাইলে আসলে তারা নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই রাস্তা করে দিবে বলেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে এখনও খবর নেই।

সবজি চাষীরা জানান, বার বছরের বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি আরও ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে উঠে। রাস্তা খারাপ তাই পাড়ায় সকল প্রকার গাড়ি চলাচল বন্ধ। হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। হেঁটে চলার পথে সবজি ও মালামাল পড়ে যায়। আবার বাজারে গেলে মালামাল বয়ে বাড়িতে নিয়ে আনতে হয়।

দক্ষিণ গোলাবাড়ির বাসিন্দা আপ্রুমা মর্গ ও হেমাচং মর্গ বলেন, বড় গর্তে পানি আর কাদার ভরা। এমন অবস্থায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না অসুবিধা হয়। বৃষ্টি বেশি হলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে যেতে পারে না।

গ্রামের খুদে শিক্ষার্থী কেংশ্যা মর্গ ও ঞমাচং মর্গ বলেন, পুরো রাস্তায় পানি আর কাদার কারণে আমরা হেটে স্কুলে ও বাড়িতে যেতে পারি না। বর্ষাকালে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারি না।

স্থানীয় যুবক চাইহ্লাপ্রু মারমা বলেন, বন-জঙ্গলে অনেক রাস্তা হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার কারণে গ্রাম উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু শহরের সঙ্গে আমাদের দক্ষিণগোলাবাড়ি গ্রামটি রাস্তার জন্য বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে দেখার কেউ নেই।

দক্ষিণ গোলাবাড়ি এলাকার ইজিবাইক চালক নিংউয়েং চৌধুরী বলেন, আমাদের ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে রাস্তাটি খুব খারাপ অবস্থায় পড়ে আছে। মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। ইজিবাইকে দুই থেকে তিন বস্তা ধান নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে পড়ে যাওয়ারমত হয়। অনেক সময় উল্টে পড়ে যায়।
৩ নম্বর গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উল্লাস ত্রিপুরা বলেন, রাস্তা টেন্ডার হয়েছে। খুব দ্রুত শুরু হবে। মানুষরা কষ্ট পাচ্ছে। অতি শীঘ্রই রাস্তাটি হয়ে গেলে মানুষরা কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া