রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:৩১ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে ১৭ কি.মি. সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩
কিশোরগঞ্জে ১৭ কি.মি. সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া-টোক সড়ক প্রকল্পে মাটি ভরাট ও নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে এগোচ্ছে। তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা থাকার পরও তিন বছরে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। ফলে ১৭ কিলোমিটারের সড়ক এলাকার বেশকিছু জায়গায় বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে প্রতিদিন এই সড়কে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর এই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাশ হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় ন্যাশনাল ডেভেলপম্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই বছরই প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্পটির আওতায় কিশোরগঞ্জের বিন্নাটি চৌরাস্তা থেকে পাকুন্দিয়া হয়ে কাপাসিয়া উপজেলার টোক বাজার পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৩২ ফুটে প্রশস্তকরণ, মধ্য পাকুন্দিয়া থেকে পাইক লক্ষীয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের একটি নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ ও বিন্নাটি, কোদালিয়া ও বাহাদিয়া এলাকায় তিনটি বাঁক সরলীকরণ এবং একটি সেতুসহ ১২টি কালভার্ট নির্মাণ কাজ। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাস্তা নির্মাণের জন্য ১৮০ কোটি টাকা আর ৬৯.৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ খাতে রাখা হয় ৫০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব পায় কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল অধিদফতর।

পুরো সড়কটি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই সড়কের দুই ধার ৩২ ফুট প্রশস্ত করণের কাজ প্রায় অর্ধেকের মতো শেষ হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় জমির মালিকরা জায়গা না দেওয়ায় বাকি অর্ধেক কাজ আটকে আছে। অন্যদিকে তিনটি বাঁক সরলীকরণ ও নতুন দুই কিলোমিটার বাইপাস সড়কটিতে এক কোদাল মাটিও ফেলতে পারেনি ঠিকাদার। এদিকে কালটিয়া বাজার, কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজার, সুখিয়া বাজার, মধ্য পাকুন্দিয়া, পাকুন্দিয়া সদর বাজার ও বাহাদিয়া এলাকায় সড়ক ভেঙে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে কাদা পানির সৃষ্টি হওয়ায় জনগণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

পাকুন্দিয়া সদর বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কটি ভাঙা হলেও শুকনো মৌসুমে চলাচল করা যেত কিন্তু এখন হাঁটাও যাচ্ছে না। বিভিন্ন ছোট খাট যানবাহন উল্টে পড়ে যাত্রী ও পথচারী প্রায়ই আহত হচ্ছে। অটোরিক্সা চালক পলাশ মিয়া জানান, ভাঙা এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। যা রোজগার করি গাড়ি মেরামতের পিছনেই সব শেষ হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভলপম্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গাজী কামাল পাশা বলেন, এ পর্যন্ত সড়কের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ করতে পেরেছি। ভূমি হাতে না পাওয়ায় বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া বলেন, প্রকল্পের তহবিলে টাকার কোন সমস্যা নেই। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুকূলে টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসন থেকে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে তা অনুমোদনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে দ্রুত এ সড়কটির কাজ শেষ করা হবে। তিনি আরো বলেন, কাজের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। আগের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুন মাসে। সমস্যা হচ্ছে হাতে টাকা না পেয়ে জমির মালিকরা তাদের জমি দিতে চাচ্ছে না। টাকা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমির মালিকদের বুঝিয়ে প্রায় অর্ধেকের মতো রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শেষ করা হয়েছে। বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া