শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

করোনার দ্বিতীয় ঝড়ে ইউরোপে কি মৃতের সংখ্যা দীর্ঘ হবে?

যোগাযোগ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
করোনার দ্বিতীয় ঝড়ে ইউরোপে কি মৃতের সংখ্যা দীর্ঘ হবে?
ইউরোপে করোনার টেস্টের জন্য লাইন

করোনায় টালমাটাল পুরো বিশ্ব। প্রথম ঝড়ে পুরো বিশ্বকে ওলোট-পালোট করে দিয়ে করোনার দ্বিতীয় ঝড় এখন সামনে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঝড়ের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে ইউরোপ। যদিও এপ্রিল মাসে প্রথম ঝড়ের শীর্ষের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখনো অনেক নিচে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এ শীতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হতে পারে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঝড়ের শঙ্কায় ইউরোপের হাসপাতালগুলো করোনার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে আরো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের মতো ব্যবস্থাগুলো আদর্শ হয়ে উঠেছে এবং সংক্রমণের সর্বশেষ বিস্তারটি মূলত অল্প বয়সীদের মধ্যে রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের ভাইরাস সংক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কম রয়েছে। তবে শীতকাল শুরু হচ্ছে এবং ফ্লু মৌসুমটি নিকটবর্তী হচ্ছে। এছাড়া সংক্রমণটি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং এমন লক্ষণও রয়েছে যে লোকেরা বিধিনিষেধ মেনে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে উঠছে।

যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইকেল হেড বলেছেন, লকডাউন বা সামাজিক দূরত্বের মতো ব্যবস্থাগুলো ছাড়া স্পষ্টতই আমাদের কাছে কভিড-১৯ প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই।

মৃতের সংখ্যা কভিড-১৯ সংক্রমণের প্রথম ঝড়ের মতো বেশি হবে না বলে মনে করেন হেড। তিনি বলেন, আমরা সংক্রমণের অনেক বিস্তার দেখব, আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরে চাপ পড়বে এবং এখানে মৃতের সংখ্যাও বড় থাকবে।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে মঙ্গলবার এক সপ্তাহের গড় সংক্রমণ ৫২ হাজার ৪১৮টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গত ১০ এপ্রিলে এক সপ্তাহের গড় মৃত্যু ৪ হাজার ১৩৪ জনের তুলনায় গত এক সপ্তাহে কেবল ৫৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এপ্রিলের তুলনায় হাসপাতালগুলো এখন কভিড-১৯ পরীক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরো বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে। কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের আইসিইউয়ে রোগীদের মৃত্যুর হার এপ্রিলে প্রায় ৫০ শতাংশ থেকে এখন প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মাল্টা, রোমানিয়া ও স্পেনে মৃত্যুর হার বাড়ছে।

আরও পড়ুন : চীন পারেনি করোনা রুখতে পেরেছে প্রতিবেশী ভিয়েতনাম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপের পরিচালক হ্যানস ক্লুজের মতে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংক্রমণের বৃহত্তম অনুপাত ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ছিল। তবে ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

মাইকেল হেড সতর্ক করে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোতে আমরা বৃদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার আবারো বাড়তে দেখছি। এর আগেও আমরা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনে অল্প বয়সীদের সংক্রমণের চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে প্রবীণদের সংক্রমিত হতে দেখেছি।

তিনি বলেন, ফ্লু মৌসুমের আগমনও একটি বিশাল উদ্বেগের। কারণ এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়তে শুরু করেছে। ফ্রান্সে গত শনিবার ১৩ হাজার ৪৯৮টি সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে এবং গত সপ্তাহে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আর মৃত্যু একমাত্র সমস্যা নয়। করোনাভাইরাসে অসুস্থ হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালগুলোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ বেড়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোল সেন্টার ফর সোস্যাল অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপের পরিচালক পিটার ড্রোব্যাক বলেন, অনেক কারণেই শীতকালে সংক্রমণের একটি নিখুঁত ঝড় হতে পারে। তবে আমরা যদি গ্রীষ্মকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে এখন ভালো অবস্থানে থাকতাম।

সূত্র : সিএনএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: