বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২০ অপরাহ্ন

কনে ফারাহানা মোটরসাইকেল চালিয়ে গায়ে হলুদের আসরে

যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
কনে ফারাহানা মোটরসাইকেল চালিয়ে গায়ে হলুদের আসরে
সংগৃহিত ছবি

গায়ে হলুদের আসরে কনে গেলেন মোটরসাইকেল চালিয়ে। নতুন বউয়ের সাজে ফারহানাকে তখন দারুন দেখাচ্ছিল। কিন্তু সবাই তো এটা মেনে নিতে পারবে না। শুরু হলো নিন্দুকদের সমালোচনা। কিন্তু কনে ফারহানা থেমে থাকেন নি। সমুচিত জবাব দিয়েছেন।

মোটরবাইক চালিয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফারহানা আফরোজ। সোনালি রঙের পোশাক পড়ে সাজসজ্জা আর মোটরসাইকেল চালানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী সবুজ রঙের পোশাক পড়ে নিজ নিজ মোটরসাইকেলে চালাচ্ছেন। কখনো তাদের মাঝেখানে, আবার কখনো তাদের সামনে সোনালি রঙ্গের পোশাক পড়ে কনে ফারহানা আফরোজ মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। আনন্দ, উৎসবে মেতে উঠছেন সবাই।

 

সেইসব ভিডিও চিত্রধারণ করেছেন তার বন্ধুদের দিয়ে। যোগদেন গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে। সেখানে অন্যান্য সবার সঙ্গে গানের তালে তালে নাচতে থাকেন। এমন ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, তা ভাইরাল হয়।
গত সোমবার থেকে অনেকেই সেই ছবি ও ভিডিও নিয়ে নানা আলোচনা- সমালোচনা করেন। ফারহানা আফরোজের বাড়ি যশোর শহরের সার্কিট হাউস এলাকায়।

বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচআর-এ এমবিএ পড়াশোনা করছেন। ২০০৭ সাল থেকে বাইক চালান তিনি। গত ১৩ই আগস্ট ছিল তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। তাঁর স্বামীর বাড়ি পাবনার কাশিনাথপুরে। স্বামী পেশায় টেক্সটাইল প্রকৌশলী।

জানা যায়, যশোর শহরের ডাকঘরপাড়ার একটি বিউটি পারলার থেকে সাজসজ্জা করেন। সেখান থেকে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে শহরে চক্কর দেন। পরে গায়ে হলুদের আসরে গিয়ে বসেন।

আরও পড়ুন : গোপনে প্রেম নিবেদন-গল্প আড্ডা সংসার সবই করে ডলফিন

ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে ফারহানা আফরোজ তার ফেসবুকে লিখেন, নতুন কিছু দেখলে সবাই হুমড়ে পড়বে। ভাল খারাপ সবই বলবে। আমি ফারহানা আফরোজ বর্তমান ফেসবুকে খুব ভাইরাল হচ্ছে আমাকে নিয়ে। কিন্তু আমি কি বলেছি আমাকে ভাইরাল কর? আমি নিজে বাইক চালাই। ঢাকাতে থাকি, অহরহ ছেলেরা হলুদে বাইক নিয়ে এন্ট্রি দিচ্ছে ও মেয়েরা নেচে। আমি মেয়ে হয়ে বাইক চালাতে পারি। তাই ভাবলাম বাইক চালিয়েই এন্ট্রি দি।

এখন করোনাকালীন সময়ে বিয়ের প্রোগ্রাম করতে থানা থেকে অনুমতির প্রয়োজন হয়। আমার ক্ষেত্রেও তার ভিন্নতা ছিল না। সকল অনুমতি নিয়েই আমার হলুদ ও বিয়ের প্রোগাম। সবই ঠিক থাকত। এত কথাও হত না, যদি বাইক নিয়ে পার্লার থেকে প্রোগ্রামে না যেতাম।

 

কথা হল। ভাল, খারাপ সব হল। আমার ছবি আমার থেকে অনুমতি না নিয়ে গ্রুপে গ্রুপে বাজে পোস্ট করা হচ্ছে। আজ মেয়ে হয়ে বাইক চালিয়ে এন্ট্রি, তাই? আজ বাংলাদেশে কত মেয়ে বাইকার! তাহলে আমি যদি হলুদে বাইক চালিয়ে ঢুকি, কিছু মানুষের এত সমস্যা হচ্ছে যে গ্রুপে বাজে পোস্ট করা হচ্ছে। ইউটিউবেও ট্রোল হচ্ছে, এগুলো কি মেনে নেওয়া যায়?

আমার সাথে এটা হয়েছে। আমি চাই না এরকম হেরাসমেন্ট আর কোন মেয়ে বা লেডি বাইকারের সাথে হোক। এমনিতেই সমাজে আমরা যারা বাইক চালাই তাদের অনেকের কথার সাথে লড়াই করতে হয়। ধীরে ধীরে এগুলো কমার কথা। তা না, বেড়ে ই চলেছে। আমাদের সাথে এই অত্যাচার আর কতদিন দেখব জানি না।

যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মেয়ে, স্পিকার মেয়ে, দেশ মেয়েরা চালায় সেখানে একটা মেয়ে যে বাইক চালানো জানে, তার বাইক চালানো কেন সমাজ ভাল ভাবে নিচ্ছে না? নিচ্ছে না, মানলাম। কিন্তু তার চরিত্র নিয়ে কথা আজে বাজে কথা কীভাবে সহ্য হয়? আমারও পরিবার আছে। বর আছে, শ্বশুরবাড়ি আছে।

এভাবে একটা মেয়ের চরিত্র নিয়ে কথা বলতে হবে? শুধু বাইক চালানো ছবি দেখে সবাই আমার চরিত্রের সনদ দিয়ে দিল?
এগুলির বিচার কি হবে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: