মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

এক দশক পর ইঞ্জিন এলেও করোনায় কমিশনিং করা যাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE
প্রতিকী ছবি

কভিড-১৯-এর কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা বাংলাদেশে আসতে পারছেন না। এ কারণে কোরিয়া থেকে আমদানি করা লোকোমেটিভগুলো কমিশনিং করা যাচ্ছে না। এতে আমদানি শেষে রেলের কাছে হস্তান্তর হলেও কমিশনিং বিলম্বিত হওয়ায় ইঞ্জিনগুলোর ব্যবহারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বশেষ মিটার গেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) আমদানি করে ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে। লোকোমোটিভ সংকটে ধুঁকতে থাকা রেলওয়ের বহরে গত ১ সেপ্টেম্বর যুক্ত হয় নতুন ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উৎপাদক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনগুলোর কমিশনিং করবে। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।

দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিন সংকটে ভুগছে রেলওয়ে। পূর্বাঞ্চলে ১৪৪টি ইঞ্জিন থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ১২১টি। প্রতিদিন ১১০ থেকে ১১৬টি ইঞ্জিনের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যায় মাত্র ১০০ থেকে ১০৫টি ইঞ্জিন। ফলে চাহিদার চেয়েও কম ইঞ্জিন নিয়ে রেলসেবা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এজন্য দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানির সঙ্গে ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ আমদানি চুক্তি করে রেলওয়ে।

এ চুক্তির আওতায়ই ১ ও ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজ থেকে ইঞ্জিনগুলো খালাস হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইঞ্জিনগুলো বুঝে নেন। আমদানি করা এসব ইঞ্জিনের প্রতিটির ওজন ৯০ টন।

দেশে মিটার গেজ ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ওজনের এসব ইঞ্জিনের গতিবেগও সর্বোচ্চ। নিয়মিত ইঞ্জিন ফেইলিউরের কারণে ভুগতে থাকা রেলওয়ে চাইছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইঞ্জিনগুলো দিয়ে ট্রেন চালাতে। কিন্তু কমিশনিং ও ট্রায়াল রান না হলে এসব ইঞ্জিন বসিয়ে রাখা ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

 

আরও পড়ুন : টাকা ভাসছে রাজশাহী রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টারের ড্রেনে

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে কমিশনিং ও ট্রায়াল রান শেষে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে রেলের বহরে যুক্ত করা যেত। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কমিশনিং কাজের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা আপাতত আসতে পারছে না।

গত ১৫ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জাহাজে বোঝাইয়ের সময় হুন্দাই রোটেম কোম্পানির দুজন কর্মী লোকোমোটিভ পৌঁছে দিতে আসেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উৎপাদন প্রতিষ্ঠান লোকোমোটিভের কমিশনিং করে রেলের প্রকৌশল বিভাগকে বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু হুন্দাই রোটেম কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রকৌশলী পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না পারায় লোকোমোটিভগুলোর কমিশনিং দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

জানা গেছে, রেলের এর আগে তুলনামূলক ভালোমানের ইঞ্জিনগুলোর গড় ওজন প্রায় ৭০ টন। রেলের বহরে থাকা মেইল লাইনে চলমান ২৬০০, ২৭০০ ও ২৯০০ সিরিজের এসব ইঞ্জিন ১৫০০ হর্স পাওয়ারের। এসব ইঞ্জিন গড়ে ৮০ কিলোমিটার গতিবেগে চলাচল করতে পারে। অন্যদিকে নতুন যুক্ত হওয়া ইঞ্জিনগুলো ২২০০ হর্স পাওয়ারের। নতুন এ ইঞ্জিনগুলোর সিরিজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০০।

এ সিরিজের নতুন এ ১০টি ইঞ্জিন ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে চলাচল করতে পারবে। প্রতিটি ইঞ্জিন গড়ে ৩০-৩৫টি কোচ যাত্রীসহ সর্বোচ্চ গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। নতুন ইঞ্জিনগুলো যুক্ত হলে ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের সময়সীমা আগের তুলনায় আরো কমবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

কভিড-১৯-এর কারণে প্রায় ৬৭ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে রেলের সব ট্রেন চালু হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন অলস বসে থাকা পুরনো ইঞ্জিনের কারণে যাত্রাপথে ইঞ্জিন ফেইলিউরের ঘটনা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন রেলের পরিবহন বিভাগের কর্মীরা।

কমিশনিং জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (প্রকল্প) ও লোকোমোটিভ আমদানি প্রকল্পের পরিচালক মো. নূর আহমেদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সালে চুক্তি হওয়ার পর ১০টি লোকোমোটিভ এসেছে। সরবরাহ কোম্পানির প্রকৌশলী ছাড়া কমিশনিং করা যাবে না। তবে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ইঞ্জিনগুলোর কমিশনিং হতে বিলম্ব হতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশনিং শেষে ট্রায়াল রানের মাধ্যমে রেলের বহরে যুক্ত করতে।

সংকটের কারণে রেলওয়ে কয়েক বছর আগেই লোকোমোটিভ আমদানির পরিকল্পনা করে। তবে বিশ্বব্যাপী মিটার গেজ রেলপথ প্রায় বন্ধের পথে। ফলে কোচ ও ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ক্রয়াদেশ প্রদানের পর সরবরাহে সময় বেশি লাগে। ১০টি ইঞ্জিন আমদানির পর ২০২১ সালের শেষার্ধে একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরো ২০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ দেশে আসবে।

ক্রমান্বয়ে আমদানির মাধ্যমে রেলের পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ লোকোমোটিভগুলো বহর থেকে বাদ দেবে রেলওয়ে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ঠিক কবে নাগাদ ইঞ্জিনগুলো যুক্ত হবে সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারছেন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৭ মে ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ৫৬০ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা ইঞ্জিনগুলো চুক্তির ২৪ মাসের মধ্যে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে বিশ্বব্যাপী চলমান কভিড-১৯-এর কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগে বাংলাদেশে পৌঁছতে।

রেলের প্রকৌশল বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা নয়টি ইঞ্জিন ২০১১ সালে রেলের বহরে যুক্ত হয়। ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা ইঞ্জিনের প্রথম চারটির চালান বাংলাদেশে আসে ২০১১ সালের ২ আগস্ট। এরপর একই বছরের অক্টোবরে বাকি পাঁচটি ইঞ্জিন বাংলাদেশে আসে। ফলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রায় এক দশক পর নতুন ইঞ্জিন পেলেও কভিড-১৯-এর কারণে রেলপথে যুক্ত হতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন রেলের প্রকৌশলীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: