বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

ইসি ও বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে বিএনপি নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি চায় : তথ্যমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
আপডেট : শনিবার, ১৭ জুন, ২০২৩
ইসি ও বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে বিএনপি নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি চায় : তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনের আয়োজক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে আগামী দিনের সরকার নির্বাচিত হোক, সেটিই আমরা চাই। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন কমিশন ও বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি চায়।

শনিবার (১৭ জুন) দুপুরে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শরৎকালীন সেমিস্টার ২০২৩ শুরু উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপিকে তো নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি সরকার, নির্বাচন কমিশন ও বিদেশিরা দিতে পারবে না। তারা আসলে নির্বাচনকে ভয় পায়। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি যে মাঠে মারা গেছে সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য।

ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আন্তর্জাতিক মহলের হাতে পায়ে ধরে বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছে। কিন্তু কোনো দেশ তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সমর্থন করেনি। সরকারকেও কেউ বলেনি যে, নির্বাচনকালীন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার করতে হবে। এতে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মাঠে মারা গেছে। এ দাবি শুধু মির্জা ফখরুল সাহেবসহ তাদের নেতাদের মুখে আছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনের আয়োজক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনের সরকার নির্বাচিত হোক, সেটিই আমরা চাই। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে, বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি চায়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে তো নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং বিদেশিরাও দিতে পারবে না। তারা আসলে নির্বাচনকে ভয় পায়। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, এ সমস্ত বকবকানি না করে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি যে মাঠে মারা গেছে সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য।

প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিক নাদিম হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত মূল আসামিসহ অনেককেই দ্রুততার সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যাতে হয়, সেজন্য যা কিছু করা দরকার সবকিছুই করা হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপি তারুণ্যের সমাবেশে চট্টগ্রামের জামালখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনেক স্থাপনা ভাঙচুর করেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি তারুণ্যের সমাবেশের কথা বলে যেভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ আমাদের মুক্তি আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের ছবি এবং ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে, এতেই প্রমাণিত হয় বিএনপি তারুণ্যের সমাবেশ করে তাদের তরুণদেরকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য শিক্ষা দিচ্ছে। তারুণ্যের সমাবেশের নাম করে পেটোয়া বাহিনী ও নৈরাজ্য শিক্ষার সমাবেশ করেছে তারা।

হাছান মাহমুদ বলেন, তা না হলে সমাবেশে যাবার পথে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা বঙ্গবন্ধুসহ সেখানে থাকা অনেক মনিষীর ম্যুরাল ভাঙচুর করার কোনো যুক্তি নাই। বিএনপি নেতারা আসলে সারাদেশে সন্ত্রাসীদের সমাবেশ ঘটাচ্ছে এবং নতুনভাবে নৈরাজ্য করার জন্য তাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।

এর আগে আইআইইউসির নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্নের সাথে প্রচেষ্টাকে যুক্ত করতে হবে। স্বপ্নের সাথে যদি প্রচেষ্টাকে যুক্ত করা না হয় তাহলে শুধু স্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই। মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে স্বপ্নের সাথে যখন প্রচেষ্টা যুক্ত হয়, তখন তার মধ্যে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিভ পাওয়ার জন্ম নেয়। সেই শক্তি তাকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সব মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় না। খুব কম মানুষের স্বপ্ন তীরে ভিড়ে। কিংবা খুব কম মানুষের স্বপ্ন, স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছায়। কিন্তু সেই মানুষের অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় যে স্বপ্নের সাথে প্রচেষ্টাকে যুক্ত করে। তাই অভিভাবকদের অনুরোধ জানাবো সন্তানদের স্বপ্ন দেখাতে শেখাবেন। সন্তান যেন স্বপ্ন দেখে। আর সেই স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সন্তান যেন প্রচেষ্টাকে যুক্ত করে।

হাছান মাহমুদ বলেন, দরিদ্রতা কখনো প্রতিবন্ধকতা নয়। এ পি জে আবদুল কালামের বাবা ছিলেন একজন সাধারণ ডিঙ্গি নৌকার মাঝি। ১২ বছর বয়সে পত্রিকার হকার হিসেবে কাজ করতেন এ পি জে আবদুল কালাম। পত্রিকা বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে তার পড়ালেখা চালাতেন। দরিদ্রতা তার জীবনযুদ্ধকে থমকে দেয়নি। তিনি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হয়েছেন, ভারতের মিসাইল প্রযুক্তির জনকও তিনি এবং তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। দারিদ্র তাকে দমাতে পারেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দরিদ্রতার কারণে কবি নজরুল মেট্রিক পাস করতে পারেননি। তিনি দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন দরিদ্রতার কারণেই। আজকে কবি নজরুল জাতীয় কবি এবং তিনি বাংলাদেশ এবং ভারতে সমানভাবে সম্মানিত। কবি নজরুলকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য কল্পনা করা যায় না।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও কাউকে দমাতে পারে না উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের যশোরের মেয়ে তামান্নার দুই হাত এবং একটা পা নেই, একটা পায়ের দুই আঙ্গুল দিয়ে লিখে সে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। তাকে যখন প্রশ্ন করা হলো, তুমি এত সাহস কোথায় পাও? এত প্রেরণা কোথায় পাও? সে বলেছে স্টিফেন হকিংস উঠতে পারতো না, বসতে পারতো না, মাথা নাড়াতে পারতো না। শুধু দুটো আঙ্গুল দিয়ে লিখে পৃথিবীর জন্ম রহস্যটাই বদলে দিয়েছে। সুতরাং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো সমস্যা নয়।

আইআইইউসির সীতাকুন্ডের কুমিরাস্থ ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু রেজা মো. নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া