বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

আ.লীগের সঙ্গে নির্বাচনে জোট নিয়ে নয় কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে : চুন্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩
আ.লীগের সঙ্গে নির্বাচনে জোট নিয়ে নয় কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে : চুন্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট নিয়ে নয় কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, একটি সিটের প্রার্থীও তারা প্রত্যাহার করবে না।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

চুন্নু বলেন, আমরা নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি। নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু করা যায়। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আমাদের এই আলোচনা চলবে। আমরা নির্বাচন করতে এসেছি। নির্বাচন থেকে চলে যাওয়ার জন্য নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিসহ নানান বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক চলছে। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত আরও বৈঠক হবে। ইতিপূর্বে বৈঠকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে আসন সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকার ও বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানদের আসনে অন্যদের প্রার্থী না দেওয়ার অনেক নজির রয়েছে। আমরাও কিছু আসনে তেমন কিছু করতে পারি কিনা সে আলোচনাও হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়নি জানিয়ে জাপা মহাসচিব বলেন, চরম বিরোধী দল হলেও অনেক সময় আসনের জন্য ছাড় দেয়া হয়। সম্মানের জায়গা থেকে। তেমনিভাবে ছাড় চাওয়া হচ্ছে। আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের সব কৌশল তো সামনে আনা যায় না। তবে আগামীকাল আরও তথ্য খোলাসা করা হবে।

আওয়ামী লীগরে সঙ্গে ২৬টি আসনে সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চুন্নু বলেন, যে সাংবাদিক সংখ্যাটা উল্লেখ করেছেন তার থেকে নিশ্চয়ই আমি সংখ্যাটা বেশি জানব। কিন্তু সেটা তো না। গতকালকের মিটিংয়ের সময় ভেতরে তো কোনো সাংবাদিক ছিলেন না। তবে আগামীকাল আরও তথ্য খোলাসা করা হবে।

আলোচনার টেবিলে কতটি আসন এসেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। প্রেম করার সময় সবকিছু গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। আগেই সবাইকে জানালে সেটি সফল হওয়া কঠিন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট কিংবা মহাজোট করার কোন সম্ভাবনা নেই। আমরা ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। আমরা মনে করছি ভোটে নিরব বিপ্লব হবে। আমরা সরকার গঠন করার মতো আসন পাবো। একটা সিটও আমরা প্রত্যাহার করব না। নির্বাচনে ফাইট করব। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটা কৌশল থাকে। আমাদেরও কৌশল আছে। সব কৌশল তো আমরা প্রকাশ করব না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বা জিডি করেছেন বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে এই ধরনের হুমকি আমিও প্রতিনিয়ত পাচ্ছি। আমার মোবাইল ফোনেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এসব হুমকি-ধামকির পরোয়া করি না। জিডিও করার প্রয়োজন মনে করিনি।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। পার্টির চেয়ারম্যানের রহস্যজনক নিরবতা ও নেতাকর্মীদের এগিয়ে চলায় সংশয় বাড়ছে নির্বাচন অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে। অনেক প্রার্থী মনে করছেন রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ইউটার্ন নিতে পারে জাপা। প্রতীক বরাদ্দের চিঠি ইস্যু না করায় সেই সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে।

আসন সমঝোতা হলে কি হবে, আর না হলে কি হবে সে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন অনেকেই। অনেকে আবার নিজের আসনটি টিক মার্ক (আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রত্যাহার) তালিকায় তুলতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কে-কে টিক মার্ক পাচ্ছেন, কতজন পাচ্ছেন সে আলোচনাই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের প্রধান আলোচ্য বিষয়। টিক মার্কের প্রভাব নিয়েও চলছে তর্ক-বিতর্ক, ক্ষোভও। অনেকেই মনে করছেন টিক মার্কের (সমঝোতায় পাওয়া আসন) বিষয়টি গোপন থাকবে না। এতে অন্য প্রার্থীরা হতাশ হয়ে পড়বেন। যখন জানতে পারবেন তিনি টিক মার্কের তালিকায় নেই, তাহলে কেনো নিজের পয়সা খরচ করে নির্বাচন করবেন! যারা টিক মার্ক পাচ্ছেন না তারা নির্বাচন থেকে সরে যাবেন। দেখা যাবে বেশিরভাগ প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন।

এসব গুঞ্জন নিয়ে দুপুর দু’টার দিকে বনানী পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন বেশকিছু কেন্দ্রীয় নেতা। তারা কয়েক মিনিট ধরে স্লোগান দেন দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ। আপোষ না সংগ্রাম-সংগ্রাম সংগ্রাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া