শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

আরো ১১৮ শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪
আরো ১১৮ শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আরো ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে চার দফায় ৫৬০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করল সরকার।

রোববার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে চতুর্থ ধাপে ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রকাশ করেন।

বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে শিক্ষক, রাজনীতিক, সমাজকর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, চাকরিজীবী, প্রকৌশলী, নাট্যকার, সংগীতশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মী রয়েছেন।

প্রথমে ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২২ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় তালিকায় ১৪৩ জন এবং সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয় আরও ১০৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা।

চতুর্থ দফার শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকায় ৩ জন সাহিত্যিক, একজন বিজ্ঞানী, একজন চিত্রশিল্পী, ৫৪ জন শিক্ষক, ৪ জন আইনজীবী, ১৩ জন চিকিৎসক, ৩ জন প্রকৌশলী, ৮ জন সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, ৯ জন রাজনীতিক, ১৩ জন সমাজসেবী রয়েছেন।

এছাড়া সংস্কৃতিসেবী এবং চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত এবং শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ৫৬০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে সাহিত্যিক ১৮ জন, দার্শনিক ১ জন, বিজ্ঞানী ৩ জন, চিত্রশিল্পী ১ জন, শিক্ষক ১৯৮ জন, গবেষক ১ জন, সাংবাদিক ১৮ জন, আইনজীবী ৫১ জন, চিকিৎসক ১১৩ জন, প্রকৌশলী ৪০ জন, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী ৩৭ জন, রাজনীতিক ২০ জন, সমাজসেবী ২৯ জন, সংস্কৃতিসেবী এবং চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ৩০ জন।

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, এর আগে তিনটি পর্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী যাঁরা স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, তাঁদের সবাই বিশিষ্টজন, সমাজের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। এর পরের ধাপে সমাজের নানা পর্যায়ে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের নাম ধাপে ধাপে সরকারি তালিকাভুক্ত হবে।

তিনি বলেন, ‘এখন যে তালিকা প্রণয়ন হলো, তা চূড়ান্ত করা হবে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগে। আজ যেটি প্রকাশ করছি, তা চূড়ান্ত খসড়া ধরে নিতে পারেন। এখন নতুন করে আবেদন জমা পড়বে, তা আবার নিরীক্ষা করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬১টি জেলায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এবারের গেজেটে প্রকাশিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষক এবং তারা গ্রামাঞ্চলের অধিবাসী। এর মাধ্যমে একটা বিষয় সুস্পষ্ট হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ গণমানুষের জনযুদ্ধ ছিল। এটি আমাদের গবেষণার একটি নতুন ধারা যোগ করবে।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত ও ইতালীয় অধিবাসীদের শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে হত্যা করা হয়েছে। কাজেই এই হত্যাকাণ্ড একটি আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রকৃষ্ট মাত্রা বহন করে।

মোজাম্মেল হক বলেন, প্রজন্ম-৭১, রক্তঋণ, ১৯৭১: গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর থেকে নাম সংগ্রহ করেছে কমিটি। এরপর কমিটি যাচাই-বাছাই করে চতুর্থ পর্বের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। চতুর্থ পর্বে শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুসূদন দে, মধু দাকে। ২০২১ সালে প্রণীত শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞায় মধুদাকে সমাজসেবী হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নাম সরকারি তালিকাভুক্ত হলেও তাঁদের পরিবার কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাবে না বলে জানান মন্ত্রী। তবে এই পরিবারগুলো প্রশাসনিক, সামাজিক ও আর্থিক কোনো সংকটে পড়লে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম-সচিব, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ড. চৌধুরী শাহিদ কাদের, ড. বায়েজিদ খুরশীদ রিয়াজ, মফিদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, লে. কর্নেল (অব) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য আরমা দত্ত, ডা. নুজহাত চৌধুরী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন কমিটিতে ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব (গেজেট) এই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া