শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

আমাদের সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য বদ্ধপরিকর : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩
আমাদের সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য বদ্ধপরিকর : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য কোনো পরামর্শ থাকলে দিন। আমাদের সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য বদ্ধপরিকর।

রোববার (১১ জুন) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত প্রয়াত চিত্রনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের শোক ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ২০১২ সালের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির আন্দোলন দেশের মানুষ দেখেছে। আন্দোলন করে কোনো কিছু করা যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। জনপ্রিয়তা যাচাই করতে হলে নির্বাচনে আসুন। বিদেশি প্রভুর কাছে ধরনা দিয়ে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ নেই। কারণ দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরসার জায়গা দেশের জনগণ জানিয়ে তিনি বলেন, আর বিএনপির ভরসা ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের কাছে ধরনা। তারা ভাবছে বিদেশি প্রভুরাই তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা দেখছি দেশের কিছু তথাকথিত সুশীল, বুদ্ধিজীবী তারা নির্বাচন নিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার জন্য অনেকে ইঙ্গিত করেন এবং আরেকটি দল বিএনপি তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় এমন ধোঁয়া তোলে দেশকে অস্থিতিশীল করে আবার সেই এক-এগারোর দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে।

হানিফ বলেন, অনেকে বলেন বাংলাদেশে আবার কি এক-এগারো সরকার আসার সম্ভাবনা আছে কিনা? দেশবাসীকে জানিয়ে দিতে চাই, যারা এমন স্বপ্ন দেখেন সেনা সমর্থিত সরকারের স্বপ্ন দেখছেন তাদের বলব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। আপনাদের এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন থেকে যাবে। এক-এগারোর সরকার বাংলাদেশে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ নেই।

কারণ ২০০৭ সালের আগে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় ছিল। তাদের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের কারণে দেশ ধ্বংসের মুখে গিয়েছিল। সেই সময় আমরা বারবার বলেছিলাম, বিএনপি নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতা আগলে রাখতে চায়। সেই আন্দোলনের মুখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হয়েছিল বলে এক-এগারোর সৃষ্টি হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এই সাড়ে ১৪ বছরে অন্ধকার বাংলাদেশকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছে। শেখ হাসিনার দক্ষতা, বিচক্ষণ নেতৃত্বে চরম দরিদ্র বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের পরিণত করার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নে বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত করেছেন। এই বাংলাদেশে এখন ষড়যন্ত্র করে কারো হাতে ক্ষমতা যাওয়ার সুযোগ নেই।

দেশের মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল জানিয়ে হানিফ বলেন, ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনা কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্ত হয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল আজ সেই গণতন্ত্র বিকশিত। আমরা যে উন্নয়নের ধারায় এগিয়েছিলাম, আমরা আজ সেই উন্নয়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই বাংলাদেশে আর কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। যারা অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের স্বপ্ন দেখেন তাদের প্রতি জনগণের পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকবে, ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করুন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে হানিফ বলেন, যারা নির্বাচনে অনিয়ম করবে তাদের নিষেধাজ্ঞা দেবে। আমরা অনিয়ম, বানচাল বা প্রভাব বিস্তার করতে চাই না। মার্কিন ভিসানীতিতে আমরা ভীত নয়।

উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কারো অবজারভেশন থাকে যত খুশি পর্যবেক্ষক পাঠান। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অসাংবিধানিক পন্থায় চিন্তার কোনো সুযোগ নেই। বাংলার জনগণ সেই সুযোগ দেবে না।

বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি মাঠ গরমের চেষ্টা করছে। বিএনপি-জামায়াত এক মুদ্রার এপিট-ওপিট। বিএনপি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের তৈরি তা বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে। একাত্তরে জামায়াত অগ্নি সন্ত্রাস, লুটপাটের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিল। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জামায়াতের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান বিএনপি গঠন করেছিল। এখন বিএনপি পাকিস্তানের এ টিম আর জামায়াত বি টিম- বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি এম নাদিম মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় শোক ও স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. শরফুদ্দিন আহমেদ, ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা শওকত আলী, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, গৌরব ‘৭১ সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন ও অভিনেতা জায়েদ খান। এছাড়াও ফারুকপুত্র রওশন হোসেন পাঠান শরত উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া