শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

‘আদার বনে শিয়াল রাজার মতো’ ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : রিজভী

রিপোর্টারের নাম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
‘আদার বনে শিয়াল রাজার মতো’ ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নির্বাচনের নামে তামাশা চলছে অভিযোগ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা শুনে ক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রী, খড়গ হাতে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ‘আদার বনে শিয়াল রাজার মতো’ ছুটে বেড়াচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন তিনিই সব, তাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। তাই যারা সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেন তাদের তিনি শত্রুজ্ঞান করেন। শেখ হাসিনা বারবার মানুষকে প্রতারিত করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করবেন, সেই সুযোগ আর নেই। সকল সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

আসন্ন নির্বাচন প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী আরও বলেন, ‘পাতানো নির্বাচন শুধু বয়কট নয়, গণপ্রতিরোধের মুখে এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে।’

গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের মাধ্যমে দল পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডের মাধ্যমে দল পরিবর্তনের জন্য কারান্তরীণ রাজনীতিবিদদের চরম অসম্মানজনকভাবে তাদের সম্মতি আদায়ের জন্য জুলুম করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। নেতা-কর্মীদের মিথ্যা সাক্ষ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে।’

আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের রিমান্ড জার্মানির ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের’ অত্যাচারের কাহিনিকেও হার মানাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দল পরিবর্তনের জন্য চরম অসম্মানজনকভাবে কারান্তরীণ রাজনীতিবিদদের সম্মতি আদায়ের জন্য জুলুম করা হচ্ছে। মিথ্যা সাক্ষ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে। সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলের নীতি-নৈতিকতা অধঃপতনের দিকে ঠেলে দেয়ার এক সুগভীর নীলনকশা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তাতে কোনো লাভ হবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের আন্দোলনে নেতাকর্মীরা অটুট বন্ধনে আবদ্ধ।

শেখ হাসিনা কার্যকর ও শক্তিশালী রাষ্ট্র চান না অভিযোগ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তার লক্ষ্য দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। দেশকে নিজের জমিদারি মনে করা তিনি। এ কারণে শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্ব অন্যের হাতে ক্রমান্বয়ে তুলে দিচ্ছেন।

রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন গণবিরোধী সরকার বাংলাদেশকে উপসংহারহীন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে। সমস্ত অর্থনৈতিক সেক্টর ধ্বংসের পর এবার তাদের কুনজর পড়েছে বৈদেশিক রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্পের দিকে। সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে পোশাক শিল্প ধ্বংসের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।

দেশের পোশাক খাত নিয়ে নিষেধাজ্ঞা আসন্ন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শ্রমনীতি ঘোষণার পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রায় অবধারিত বলে মনে করছেন দেশের পোশাকশিল্পের মালিকেরা। ইতিমধ্যে পণ্যের আদেশদাতারা ঋণপত্রে এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে জাহাজীকরণের পর নিষেধাজ্ঞা আসলেও পণ্য নেবে না তারা।’

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দমনে হত্যা নিষ্পেষণ এবং প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে এই সর্ববৃহৎ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রিজভী। তিনি বলেন, শ্রম অধিকার সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন শ্রমনীতি ঘোষণার পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রায় অবধারিত বলে আশঙ্কা করছেন মালিকরা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল পোশাক খাতে আতঙ্কের বিষয়টি মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, “নিষেধাজ্ঞা এলে বিদেশিরা পণ্য নেবে না। ইতোমধ্যে পণ্যের আদেশ দাতারা এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ঋণপত্র খোলার সময়। এমনকি পণ্য জাহাজীকরণের পর নিষেধাজ্ঞা এলেও পণ্য নেবে না তারা।” ইতোমধ্যে এ খাত ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ব্যবসা হারিয়েছে। পোশাক শিল্পের মালিকদের ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে উদ্ভট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বালখিল্য প্রদর্শন করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বললেই পোশাক রপ্তানি বন্ধ হবে না। নিষেধাজ্ঞা দিলে কিছুই হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া