শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগ আমাদের স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে: ফখরুল

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩
আওয়ামী লীগ আমাদের স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে: ফখরুল

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, মানুষ ন্যায়বিচার পাবে, সাম্য প্রতিষ্ঠা হবে, গরিব আরও গরিব হবে না, ধনী আরও ধনী হবে না, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমাদের স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে। ৭১ সালে যে লক্ষ্যে বাংলাদেশ গড়েছিলাম সেই বাংলাদেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।

রোববার (১১ জুন) দুপুরে মহানগরের তেলীপাড়া এলাকায় কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত গাজীপুর মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সারা বিশ্ব চায় বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন হোক। আওয়ামী লীগ জনগণের দল নয়, প্রকৃতপক্ষে তারা একটি সন্ত্রাসী দল। তাই তারা নির্বাচন চায় না। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দেয় তারা সন্ত্রাসী ছাড়া আর কিছুই না। তাদের সঙ্গে ফয়সালা হবে রাজপথেই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল নয়, প্রকৃত পক্ষে তারা একটি সন্ত্রাসী দল। তাই তারা নির্বাচন চায় না। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দেয় তারা সন্ত্রাসী ছাড়া আর কিছুই না।’

সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০১৪-এর নির্বাচনে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। ১৮-তে আগের রাতে ভোট নিয়ে গেছে। এবার সেটা চলবে না। এমন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এবার জনগণ জেগে উঠেছে। তারেক রহমান ১০ দফা দাবি দিয়েছেন।

ফখরুল বলেন, গাজীপুর থেকে আন্দোলন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। আপনাদের নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। গাজীপুরের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, গাজীপুর ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে- এখন লড়াই সংগ্রাম করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ৯৬-তে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল। সেই দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে একসঙ্গে নিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ১৭৩ দিন হরতালের পরে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে স্বাগত জানিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানকে সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার মুখে বলে এক কথা, কাজে আরেক। ১৯৭০ সালে তারা ভোট করেছিল। তখন বলেছিল, বাংলাদেশ শ্মশান কেন? বাংলাদেশকে স্বর্গ বানিয়ে দেবে। এসব কথা বলে মানুষের ভোট নিয়ে ১৯৭০ সালে তখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, মাত্র কিছু দিনের মধ্যে তারা সব কিছু ভুলে সেই বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। তখন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। যারা বয়স্ক মানুষ তারা জানেন, সেই রংপুরের বাসন্তী তার লজ্জা ঢাকার জন্য একটা শাড়িও পায়নি। মাছ ধরার জাল পরেছিল।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল নয়। মুখে বলবে গণতন্ত্রের কথা কিন্তু কাজ করবে তার উল্টো। আওয়ামী লীগ প্রকৃতপক্ষে একটা সন্ত্রাসী দল। তাদের গোটা বডি ল্যাংগুয়েজে সন্ত্রাসী ছাড়া আর কিছু নেই। আওয়ামী লীগকে চিনতে হলে দুটো জিনিস খেয়াল করতে হবে, একটা দুর্নীতি, আরেকটা সন্ত্রাস।

সরকারের কাপাকাপি শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছে। সকালে বলে একটা, বিকেলে বলে আরেকটা। কেউ বলে সংলাপ করবে, কেউ বলে করবে না।

সংলাপ করতে কে চেয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সংলাপ আমরা চিনি, তোমরা মিথ্যা কথা বল, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা কর। এবার আর কোনো ফাঁদে পা দেওয়া নয়, এবার লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে।

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক এম মঞ্জুরুল করীম রনির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. শওকত হোসেন সরকারের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, কেন্দ্রীয় নেতা মো. ওমর ফারুক সাফিন, ডা. মাজহারুল আলম, সাঈদ সোহরাব, আবু আশফাক, কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, মেয়র মো. মজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, মহানগর বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জামান ননী, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম শামীম, সুরুজ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাভেদ আহমেদ সুমন, বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ, গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল, কোনাবাড়ি থানা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী, কাশিমপুর থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আলী হোসেন, পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন বকুল, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, মহানগর যুবদলের আহবায়ক এজিএস সাজেদুল ইসলাম, মহানগর কৃষকদলের সভাপতি আতাউর রহমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহাদাৎ হোসেন শাহীন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রুহানুজ্জামান শুক্কুর, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী শিরিন চাকলাদার প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া