মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগকে আর বিশ্বাস করা যায় না: ফখরুল

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : বুধবার, ১৪ জুন, ২০২৩
আওয়ামী লীগকে আর বিশ্বাস করা যায় না: ফখরুল

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আর বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজির দেউরি মোড়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, লজ্জায় আমরা মুখ দেখাতে পারি না। তিনি প্রশ্ন করেন র‌্যাবকে কারা ব্যবহার করেছে। আমাদের ভাইদের তুলে নিয়ে গুম করতে। হত্যা করতে। এই আওয়ামী লীগকে আর বিশ্বাস করা যায় না। বরিশালের পীর সাহেব একজন আলেম মানুষ। তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে। শেষ পর্যন্ত তাঁকেও মেরে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ দেশটাকে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে? আমরা লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না। আমেরিকা থেকে স্যাংশন এসেছে। তারা নাকি আমেরিকার ভিসানীতিতে ভয় পায় না। এখন এমন ভয় পেয়েছে আর তাদের হাঁটু কাঁপতে শুরু করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ১৪ বছর হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছেন। এর মধ্যে তারা আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। কোর্টে কোনো বিচার হয় না। মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হয়। হাইকোর্টে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়। আবার যখন আমরা কারাগারে থেকে হাইকোর্টে জামিন নিয়ে বের হই, তখন নতুন মামলার গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটি গণতান্ত্রিক দেশ। যেখানে আমাদের ভোট আমরা দেবো, যাকে খুশি তাকে দেব। আমরা কথা বলতে পারব। সরকারের সমালোচনা করতে পারব এবং লিখতে পারব। কিন্তু আজকে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আজকে দেশের কোথাও কোনো শান্তি নাই। প্রতি পদে পদে গলা টিপে ধরা হয়েছে। এখন সাংবাদিক ভাইয়েরা লিখতে পারেন না। কারণ, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন লিখলেই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে। অনেকে কারাগারে গিয়েছেন। সাগর-রুনি হত্যার বিচার হয়নি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে বাংলাদেশকে বলা উন্নয়নের রুল মডেল যে বাংলাদেশকে বলা হচ্ছে এখন মরিচীকা। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা ছাড়া আর কেউ লাভবান হচ্ছে না। চরমোনাই পীর আলেম মানুষ। তার গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। মেরে রক্ত বের করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া এখন জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাদের ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সে দেশে গণতন্ত্র থাকতে পারে না।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে কীসের উন্নয়ন। জনগণের টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন হয়েছে। সরকার আপনাদের এখানে একটা টানেল করছে। যেটি নিয়ে তারা ঢোল পেটাচ্ছে। আমাদের টানেল দরকার আছে, তবে তার আগে আমাদের বাঁচার দরকার আছে। ছেলেমেয়েদের চাকরির দরকার আছে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তার দরকার আছে। আজকে নতুন করে কলকারখানা তৈরি হচ্ছে না। ৪২ ভাগ পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। আজকে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে পারছেন না। কারণ ডলার নেই। নেই কেন? সরকারি লোক সব পাচার করে দিয়েছে। তারা ব্যাংক লুট করেছে।

ফখরুল আরও বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন শহরে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ জাহাঙ্গীরের মায়ের কাছে হেরেছে। বরিশালে প্রায় চরমোনাই পীরের কাছে হেরেই যাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কারসাজি করে জিতে গেছে। তারা চরমোনাইয়ের পীরকে পর্যন্ত মারতে দ্বিধাবোধ করেন নাই।

তিনি বলেন, আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে আমরা বারবার মুক্ত করে দিতে বলেছি। আমরা জানি না, কারাগারে থাকার সময় তাকে সেখানে স্লো-পয়জনিং করা হয়েছিল কি না। কারণ তিনি যেভাবে অসুস্থ হয়েছেন সেটি হওয়ার কথা নয়। তিনি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। আজকে চল্লিশ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে? এটি কোন গণতান্ত্রিক দেশ হতে পারে না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার আমাদের নেতা-কর্মীদের আসামি করে শত শত মামলা করেছে। সেসব মামলায় আমরা জামিন নিতে আদালতে যেতে পারি না। হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পর, আমরা নিম্ন আদালতে গেলে নিম্ন আদালত আমাদের লোকদের জেলে পাঠায়। তারা ভীতু। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা বিএনপির বিরুদ্ধে পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনকে ব্যবহার করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার কত ভীরু, কাপুরুষ, খুব লম্বা লম্বা কথা বলে। বলে ক্ষমতায় আমরা যাব, ক্ষমতায় কিভাবে যাবা? ওই পুলিশ, ওই বিডিআর, ওই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তোমরা ক্ষমতায় যাবা!

ফখরুল বলেন, এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। আজকে আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুট করে তারা বিদেশে পাচার করেছে। বিদ্যুৎ দিতে পারে না। কেন টাকা তো নিয়েছেন সব? টাকা একবার না, তিনবার, চারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই না অতিরিক্তচার্জ নিচ্ছেন। বিদ্যুতের কার্ডে ১ হাজার টাকা ঢুকালে ৩০০ টাকা নাই। এই টাকা কোথায় গেল? শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের ঘরে গেল। এই জনগণের টাকা দিয়ে তুমি উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্ট করছ।

চট্টগ্রামের টানেলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটার দরকার আছে সত্য, কিন্তু আগে তো মানুষের বাঁচার দরকার আছে। আগে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার বিষয় নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে, আগে তো আমার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে, আগে তো আমার চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কলকারখানা কোথায়? নতুন কলকারখানা তো হচ্ছে না, উপরন্তু যা ছিল তা থেকে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী, আমদানি করেন। এখন ব্যবসায়ী ভাইয়েরা কি আমদানি করতে পারছেন? কেন পারছেন না, ডলার নাই। ডলার নাই কেন? সব তো পাচার করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সরকার শুধু ভোট চুরি নয়, জনগণের সম্পদ চুরি করেছে। আমার বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি করে নিয়ে গেছে। আমার ব্যাংকগুলোকে চুরি করে খালি করে দিয়েছে। এ রকম লুটেরা, এ রকম চোর যদি সরকারে আর একদিনও থাকে দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। এটা আমার একার কথা নয়, আজকে বিদেশী পত্রিকায়ও একই কথা বের হচ্ছে। ভারতীয় একটি পত্রিকা গতকাল লিখেছে যে বাংলাদেশকে বলা হতো উন্নয়নের রোল মডেল, সেই বাংলাদেশ নাকি এখন মরিচিকা দেখছে। কারণ উন্নয়নের নামে বাংলাদেশকে লুটপাট করা হয়েছে, উন্নয়নের নামে বাংলাদেশকে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমদের সমস্ত অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজকে আমরা আদালতে গিয়ে যে ন্যায় বিচার পাব, সেই ন্যায় বিচার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পার্লামেন্টকে শেষ করে দিয়েছে।

সমাবেশে আগত তরুণদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। আমরা যখন যুবক ছিলাম, আমরা এই দেশটাকে স্বাধীন করেছি। আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে কারাগারে অনেকদিন আটক করে রাখা হয়েছিল। আমরা বারবার বলেছি তাকে মুক্তি দিন। আমরা জানি না সেখানে তাকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে কিনা? কারণ তিনি এখন যে অসুস্থ হয়েছেন তা হবার কথা নয়। তিনি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এদেরকে নির্বাচনে বিশ্বাস করা যায়? এদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সমস্ত মানুষকে শামিল করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করতে হবে। সবাইকে এক করে দেশকে রক্ষা করার জন্য, মানুষকে রক্ষ করার জন্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন মানুষ বাজারে যেতে পারে না, বাজারে আগুন। চালের দাম বেড়ে গেছে, তেলের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়ে গেছে। লবন, চিনি, ডিম, মুরগীসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষ ভাল নেই। তারা তো ভাল আছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা গুম করেছে, খুন করেছে, সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মামলা হামলা চালিয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রতিদিন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

সমাবেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন এমন কেউ কি আছেন যার বিরুদ্ধে মামলা নেই? তিনি নিজের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা থাকার কথাও জানান।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে বক্তব্য আরও দেন বিএনপির স্থানী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহাজাহান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, সাংগঠনিক মাহবুবের রহমান শামীম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া