বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কথা বলতে বাধ্য করানো হচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৩
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কথা বলতে বাধ্য করানো হচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য করার পেছনে দেশটিতে অবস্থানরত কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক এবং কয়েকজন প্রবাসী সাংবাদিকদের দায় দেখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে ফরেন সার্ভিস স্পাউজ অ্যাসোসিয়েশন (এফওএসএ) আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যারিটি বাজার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রবাসী বাঙালি তাদের (যুক্তরাষ্ট্রকে) জোর করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্ত করার চেষ্টা করে। প্রবাসী সাংবাদিক ও কিছু বাঙালি নাগরিক ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারাই জোর করে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করছে।

তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছে, আপনাদের লোকেরা আমাদের টেনে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা কোনো দলের না। আমরা কোনো দলকে সমর্থন দিই না। সব দল আমাদের কাছে সমান। তারপরও বাঙালি সাংবাদিকরা জোর করে টেনে তাদের আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করায়। এটা দুঃখজনক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের লোকেরাই আমাদের দেশের ধ্বংস করার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশটা আপনাদের আমাদের সবার। আজ আওয়ামী লীগ সরকারে আছে, কালকে নাও থাকতে পারে কিন্তু দেশ তো আপনার। বঙ্গবন্ধু দেশটা তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আর শেখ হাসিনা এই দেশটাকে একটা সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটা আপনাদের ভবিষ্যতের জন্য। এরা অনেকেই বাহবা পাওয়ার জন্য এই অপকর্ম করে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধুদেশ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বারবার বলছে যে, আমাদের এ বন্ধুত্ব ৫০ বছরের। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ, সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক দেশ, তারা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়। তাই নানা সময় তারা আমাদের বিভিন্ন উপদেশ দেয়। সেসব উপদেশ আমরা যাচাই-বাছাই করে যেটা ভালো মনে হয় আমাদের দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য, বাংলাদেশের ভবিষতের জন্য, সেটা আমরা নেব।

তিনি বলেন, পৃথিবীতের প্রায় ১৭৩টি দেশে নির্বাচন হচ্ছে। আমেরিকা কি ১৭৩ দেশ সম্পর্কে কিছু বলে? না। বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিদিনই আমেরিকার একটা বক্তব্য থাকে। এর মূল কারণটা হলো, আমাদের প্রবাসী বাঙালীরা। তারা তাদের ত্যাক্ত করে, তারা তাদের জোর করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করে। তারাই বলছে, আমাদের টেনেটুনে কোন আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নিচ্ছেন? আমরা কোন দলের না। আমরা কোন দলকে আলাদাভাবে সমর্থন করি না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তাদের থেকে সংলাপের প্রস্তাব এসেছে। আওয়ামী লীগ কখনও সংলাপে পিছপা হয় না। আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনমুখী দল, কখনও ব্যাকডোর দিয়ে সরকারে আসেনি আওয়ামী লীগ। সব সময় নির্বাচনের মধ্যে সরকারে এসেছে। সেই ৪৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ দল জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করে। আমরা চাই দেশের যে গণতান্ত্রিক ধারা আমরা চালু করেছি, প্রধানমন্ত্রী ১৫ বছর ধরে কয়েক হাজার নির্বাচন করেছে। মোটামুটিভাবে অধিকাংশ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। দুয়েকটিতে হয়তো অনিয়ম হয়েছে। তবে সেই নির্বাচনগুলো বানচালও হয়েছে। তবে আমরা নির্বাচন চাই।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন কাউকে বাধাগ্রস্ত করতে দেব না। আর এ নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যদি বন্ধুরাষ্ট্র সহায়কের ভূমিকা পালন করে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তারা সব সময় ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন চায় বলেছে। তার মধ্যে কখনও কখনও জোর করে সংলাপ দিতে। আমি আগেও বলেছি, আমাদের এই উপমহাদেশে নির্বাচনের সময় সংঘাত হয়ে থাকে। তবে এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা কমছে, গত চার-পাঁচটা নির্বাচন দেখেন সেখানে কিন্তু সংলাপ ছিল। আমরা আশা করি, সংঘাত দূর করার জন্য সকল দল ও মতের তাদের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকতে হবে।’

২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে সহিংসতার বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেদিন বিএনপির উদ্দেশ্যই ছিল জ্বালাও-পোড়াও। তারা হাসপাতালেও আক্রমণ করেছে। সাধারণ মানুষের জনমাল নষ্ট করছে।

এ সময় বিএনপিকে ‘ঔপনিবেশিক’ আচরণ বাদ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মোমেন বলেন, আমরা আশা করব, যে বিপদগামী দলগুলো আছে তারা পরিপক্কতা অর্জন করে নির্বাচনমুখী হবে। যাতে আমরা শান্তিপূর্ণ মডেল নির্বাচন করতে পারি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া