সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
অনলাইনে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া

রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটার ঝক্কি-ঝামেলা আছে। এজন্য সময় ও প্রস্তুতিরও প্রয়োজন আছে। করোনা সংক্রমণের পর থেকে ট্রেনের একশ’ভাগ টিকিট অনলাইনে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কাউন্টার থেকে এখন আর কোনো টিকিট কাটার সুযোগ নেই। আসুন জেনে নেই অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম-

ওয়েবসাইট
বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট বংযবনধ.পহংনফ.পড়স এ ঢুকতে হবে। ঢুকলেই উপরে ডান দিকে সাইন ইন, সাইন আপ। যাদের আইডি খোলা আছে তারা ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, সিকিউরিটি কোড দিয়ে সাইন ইন করে আইডিতে ঢুকবেন। যাদের আইডি খোলা নেই, তারা আইডি খুলতে সাইন আপে ক্লিক করবেন।

আইডি খুলতে

সাইন আপে ক্লিক করলে একটি পেজে নিয়ে যাবে। এখানে প্যাসেঞ্জারের নাম, ই-মেইল আইডি, পাসওয়ার্ড, আপনার ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর চাইবে। এ পাসওয়ার্ড আপনি যে আইডি খুলছেন, তার পাসওয়ার্ড। আর যাত্রীর নাম দিতে সতর্ক থাকবেন। যার নাম দেওয়া হবে, তিনিই হবেন আইডির এবং টিকিটের মালিক। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হলো মোবাইল নম্বর। একটি নম্বর থেকে একটি আইডি খোলা যাবে। এই নম্বর সবসময় অনলাইন টিকিটের পিডিএফে শো করবে। এগুলো সব ফিলাপ করে রেজিস্ট্রার বাটনে ক্লিক করবেন।

ই-মেইল

ব্রাউজারে ই-মেইলের জন্য আরেকটি ট্যাব খুলুন। রেজিস্ট্রারে ক্লিক করলেই ঢ়ষবধংব পযবপশ ঁৎ বসধরষ ভড়ৎ াবৎরভরপধঃরড়হ ষরহশ লেখা আসবে। আপনার ই-মেইলে ঢুকে দেখবেন বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে একটি কনফারমেশন লিংকসহ মেইল এসেছে। লিংকে ক্লিক করুন। আবার রেলওয়ের পেজে চলে যাবে। ই-মেইল, রেলওয়ে আইডির পাসওয়ার্ড, সিকিউরিটি কোড দিয়ে সাইন ইন করুন। আরেকটি পেজে নিবে। শেষ ধাপ হিসেবে আপনার মোবাইল নম্বরে ভেরিফিকেশন কোড আসবে। যদি না আসে, তবে ংবহফ াবৎরভরপধঃরড়হ পড়ফব এ ক্লিক করবেন। আপনার নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে, সেটি এই পেজে লিখবেন। লিখে পযবপশ াবৎরভরপধঃরড়হ পড়ফব এ ক্লিক করবেন। এতে আপনি একটি আইডির মালিক হয়ে গেলেন।

সাইন ইন

এবার আপনার ই-মেইল, পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করুন আপনার আইডিতে। সাইন ইন করলেই পোস্টের পিকের মত আপনার ড্যাশবোর্ড আসবে। গত একমাসে আপনি কোন কোন টিকিট কাটতে পেরেছেন। কোন টিকিট কাটতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তা শো করবে। পাশাপাশি ড্যাশবোর্ডে থাকবে ফেয়ার কোয়েরি, ট্রেইন রুট, চেঞ্জ পাসওয়ার্ড এবং পারচেজ টিকিট অপশন। যেটা দরকার সেটাই ক্লিক করুন।

পাসওয়ার্ড চেঞ্জ

যদি আপনার কাছে আইডি ইনসিকিওর লাগে, তবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চেঞ্জ পাসওয়ার্ড এ ক্লিক করবেন। এখানে আপনার পুরাতন পাসওয়ার্ড, নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে চেঞ্জ বাটনে ক্লিক করলেই চেঞ্জ হয়ে যাবে।

ফেয়ার কোয়েরি

আপনি যদি কোনো ট্রেনের টিকিট মূল্য জানতে চান, তাহলে ফেয়ার কোয়েরি বাটনে ক্লিক করুন। এখানে আপনি কত তারিখে ভ্রমণ করবেন, কোন স্টেশন থেকে ভ্রমণ শুরু করবেন, কোন স্টেশনে নামবেন, ট্রেনের নাম, কোন ক্লাসে ভ্রমণ করবেন, কতজন এডাল্ট, কতজন বাচ্চা সব সিলেক্ট করবেন। এরপর ঝযড়ি ঋধৎব বাটনে ক্লিক করলেই আপনাকে টিকিটের মূল্য ভ্যাট এবং সার্ভিস চার্জসহ বলে দেবে।

টিকিট কাটা

টিকিট কাটতে চাইলে চঁৎপযধংব ঞরপশবঃ অপশনে ক্লিক করুন। ক্লিক করলে একটি পেজে ঢুকবেন। সেখানে ঝঃধঃরড়হ ভৎড়স এবং ঝঃধঃরড়হ ঃড় সিলেক্ট করবেন। ভ্রমণের তারিখ সিলেক্ট করবেন। এবার ক্লাস বাটনে ক্লিক করবেন। আপনার যে ধরনের টিকিট দরকার, সেটা সিলেক্ট করবেন। সবশেষে ংবধৎপয ঃৎধরহ বাটনে ক্লিক করবেন।

ট্রেন সিলেকশন

আপনি যে তারিখে যে রুটে সিলেকশন দিয়েছেন; সে রুটে এক বা একাধিক ট্রেন আছে। কোনটা কখন ছাড়বে সব দেখাবে এবার। এখন আপনি যে ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান সেটার অপশনে কতজন এডাল্ট, কতজন বাচ্চা এগুলো সিলেক্ট করবেন। সর্বোচ্চ চারজন সিলেক্ট করতে পারবেন। এডাল্ট এবং বাচ্চাসহ মোট ৪ জনের বেশির টিকিট আপনাকে দেওয়া হবে না।

সিলেকশন

এবার আসি টিকিট সিলেকশন। সিলেকশনে দুটি অপশন থাকবে- অঁঃড় ঝবষবপঃরড়হ ও ঝবধঃ ঝবষবপঃরড়হ। যদি অটো সিলেকশন সিলেক্ট করেন, সার্ভার কম্পিউটার আপনাকে এভেইলএবল টিকিট থেকে যেকোনো সিট দিয়ে দেবে। কিন্তু সিট সিলেকশনে ক্লিক করলে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী সিট সিলেক্ট করতে পারবেন।

সিট সিলেকশন

সিট সিলেকশনে ক্লিক করলে আপনাকে নির্ধারণ করা বগির বা বগিগুলোর সিট প্লান দেখাবে। যেসব সিট কালো দেখবেন সেগুলো কাউন্টারের জন্য। যেসব সিট লাল ও সবুজ সেগুলো অনলাইনের জন্য। লাল মানে অলরেডি সিট বিক্রি হয়ে গেছে, সবুজগুলো এখনও আপনি কিনতে পারবেন। এখান থেকে আপনার পছন্দমতো সিট বা সিটগুলো বাছাই করবেন। বাছাই করলে পাশের ছোট্ট ট্যাবে আপনার সিটগুলোর নম্বর, ভাড়া, ভ্যাট, সার্ভিস চার্জসহ মোট ভাড়া দেখাবে। এরপর আপনার লিঙ্গ (মেল বা ফিমেল), বয়স এগুলো সিলেক্ট বা ফিলাপ করবেন। অটো সিলেকশন করলে তারাই আপনাকে শো করবে কয়টি সিট আছে, ভাড়া কত? তবে কোন বগি কোন সিট এসব দেখাবে না। এরপর লিঙ্গ, বয়স সিলেক্ট করবেন। সিট সিলেকশন আপনি ভ্রমণের ১০ দিন আগে থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত সময়ের মাঝে করতে পারবেন। ভ্রমণের ৪৮ ঘণ্টা আগ থেকে ভ্রমণের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সিট সিলেকশন অপশন থাকবে না। তখন আপনাকে অটো সিলেকশনে যেতে হবে।

কাটার সময়

টিকিট কেনার সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা। রাত ১১টার পর টিকেট কাটার ট্রাই করলে ব্যর্থ হবেন।

পেমেন্ট

পেমেন্ট করতে পারবেন ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস, ডিবিবিএল নেক্সাস, ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংকিং থেকে। আপনি যেটা দিয়ে ভাড়া দিবেন, সেটাতে ক্লিক করবেন। একবার টিকিট কাটলে আগামী সাতদিন একই কার্ড থেকে টিকিট কাটতে পারবেন না। যদি কাটেন, তবে আপনার টাকা কেটে রেখে দেবে, কিন্তু কোন টিকিট দেবে না।

সাইন আউট

টিকিট কাটা হয়ে গেলে কম্পিউটার থেকে এবার সাইন আউট করে ফেলুন। এরপর ই-মেইলে ঢুকলে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে একটি মেইল আসবে। সাথে একটি পিডিএফ ফাইল থাকবে। এটাই আপনার টিকিটের পিডিএফ। এখানে ডাউনলোড প্রিন্ট আউট অপশন আছে। পছন্দমতো পিডিএফ ডাউনলোড বা প্রিন্ট আউট করুন। যদি কাউন্টার থেকে টিকিটের হার্ডকপি নিতে চান তবে, মোবাইল নম্বর এবং টিকিটের পিন নম্বর একটা কাগজে লিখে কাউন্টারে দিন, তারা আপনাকে টিকিট দেবে।

পিডিএফে ভ্রমণ

যার নামে আইডি খোলা হয়েছে, টিকিটেও তার নামই হবে। যদি সে ভ্রমণ করে, তাহলে শুধু পিডিএফের প্রিন্ট কপি নিয়েই ভ্রমণ করতে পারবে, কাউন্টার থেকে টিকিট তোলা লাগবে না। কিন্তু অন্য কেউ এই পিডিএফ দিয়ে ভ্রমণ করতে পারবে না। এক্ষেত্রে তাকে কাউন্টার থেকে টিকিট তুলতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া