শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে ২৪ হাজার একর জমির পাট

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

কুষ্টিয়ায় গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এবার পাট চাষের দিকে ঝুঁকেছিলেন চাষিরা। পাটের ফলনও ভালো হয়। তবে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার প্রায় ২৪ হাজার ১২৮ একর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে হতাশায় ডুবেছেন চাষিরা। অনেকে পাট তুলে অন্য ফসল লাগিয়েছেন।
জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৫ হাজার ৫১০ একর। তবে পাট চাষ হয়েছে ৯৪ হাজার ৬৯৮ একর। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় চার লাখ ২৪ হাজার ৬৫৪ বেল। প্রতি বেলের ওজন ধরা হয় ১২৮ দশমিক ২৫ কেজি।

জানা গেছে, চলতি বছর কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৭৯২ একর, কুমারখালীতে ১২ হাজার ৩২৫ একর, খোকসায় ১০ হাজার ৬২১ একর, মিরপুরে ১৬ হাজার ৯২ একর, ভেড়ামারায় আট হাজার ৬০৭ একর এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৪০ হাজার ৯৭৭ একর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত বছর কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৩ হাজার ৫৩৬ একর। তবে পাট চাষ করা হয়েছিল ৮৯ হাজার ৫৩৫ একর।

দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের পাটচাষি কারিম মণ্ডল জানান, ‘এবার এক বিঘা জমিতে পাট বুনেছিলাম। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষেতের পাট নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই জমিতে নতুন করে অন্য ফসল চাষ করেছি।’

একই উপজেলার ধুবইল গ্রামের মোমিনুল হক রাজু জানান, ‘এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট বুনেছিলাম। তবে ক্ষেতে বৃষ্টি জমে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়নি। পরে পাট কেটে ধান রোপণ করা হয়েছে।’

কুষ্টিয়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গত বছর চাষিরা ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর বেশি জমিতে পাট বপন করেছিল। কিন্তু অতি বৃষ্টির কারণে বপনকৃত প্রায় ২৪ হাজার ১২৮ একর ক্ষেতের পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া নিচু এলাকায় বৃষ্টি পানি জমে থাকার কারণে অনেক কৃষক এবার সময়মতো পাট বপন করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বিঘাপ্রতি পাট চাষে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে পাট পাওয়া যায় গড়ে আট মণ। গত বছর সব শেষ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছিল। এ বছর পাট চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রতি উপজেলায় দুই হাজার চাষির মাঝে এক কেজি করে পাটের বিজ এবং ১২ কেজি করে বিনা মূল্যে সার দেওয়া হয়েছে।

পাট কর্মকর্তা সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস জানান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কুষ্টিয়ার খোকসায় একটিমাত্র পাটক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। জেলায় একটিমাত্র পাটক্রয় কেন্দ্র পর্যাপ্ত না হাওয়ায় সব এলাকার চাষি সুবিধা পায় না। ফলে আরও একটি পাটক্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন। কৃষকদের পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষত দৌলতপুর উপজেলায় বিজিএমসির একটি সরকারি পাটক্রয় কেন্দ্র স্থাপন জরুরি।

তিনি আরও জানান, দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়ায় নতুন একটি পাটক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য পাট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও এটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: